দেশের প্রথম ৫৯ জেলায় বুধবার জেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে।
চেয়ারম্যান ও সদস্যপদে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বিরতিহীন ভোটগ্রহণ চলে।
ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এ নির্বাচনে ভোট দেন।
এদিকে, জেলা পরিষদ নির্বাচনে ঢাকা জেলার কয়েকটি ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ।
দুপুরে আজিমপুর গালর্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নভাবে ভোট গ্রহণ চলছে—এটা নতুন অভিজ্ঞতা তবে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
নোয়াখালী:
নোয়াখালী জেলা পরিষদ নির্বাচনে চারটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন-ইসি। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, জেলার সেনবাগ উপজেলার অর্জুনতলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা জেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট দেয়ার জন্য সদস্যপদ চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট করেন। পরে মঙ্গলবার হাইকোর্ট থেকে ৪নং কানকিরহাট বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়।
অপরদিকে হাইকোর্টের নির্দেশে ২নং সোনাইমুড়ী জয়াগ মহা-বিদ্যালয়, ৬নং বেগমগঞ্জ উপজেলার কে বি ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় ও ৯নং নোয়াখালী পৌরসভার হরিণারয়নপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে সাধারণ সদস্য পদের ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখা হয়। তবে ওই কেন্দ্রগুলোতে চেয়ারম্যান পদে ভোটগ্রহণ চলে।
সকাল ৯টা থেকে জেলার ১৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৪টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলে দুপুর ২টা পর্যন্ত। নির্বাচনে ৪ জন চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ ৯২জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
ফেনীর:
৬১টি জেলা পরিষদে ভোট হওয়ার কথা থাকলেও ফেনী ও ভোলায় এরইমধ্যে সব পদের প্রার্থীই ভোট ছাড়া বিজয় হয়েছেন।
বগুড়া:
আদালতের নির্দেশনা মেনে নির্বাচন কমিশনের নিষেধাজ্ঞায় বগুড়ায় জেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যানসহ তিনটি সাধারণ সদস্য পদে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।
সকাল ৯টা ৩২ মিনিটে বিষয়টি বগুড়া জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আশরাফ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, জেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও সাধারণ সদস্য পদে তিনটি ওয়ার্ডে ভোটগ্রহণ স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন নিষেধাজ্ঞা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এ কারণে চেয়ারম্যান পদসহ ৬, ১২ ও ১৪নং ওয়ার্ডে সাধারণ সদস্য পদে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।
জেলার ১২টি ওয়ার্ডে সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্য পদে সকাল ৯টা থেকে যথারীতি দুপুর ২টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, চেয়ারম্যান পদে আগামী ৫ জানুয়ারি ঊচ্চতর আদালতে রিটের শুনানি হবে।
বগুড়া জেলা পরিষদ নির্বাচনে মোট ১৫৮৯জন ভোটার তাদের ভোট দেন।
এদিকে, আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোনো দল এ নির্বাচনে প্রার্থীকে সমর্থন করেনি। তবে ৬১ জেলার মধ্যে চেয়ারম্যান পদে অন্তত ৩৩টিতে ক্ষমতাসীন দলের ৫৩ বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। এসব প্রার্থীকে ঘিরেই নির্বাচনে নানা অঘটনের আশঙ্কা করা হয়। এ ছাড়া চেয়ারম্যান পদে বিএনপির দু'জন, গণফোরামের একজন, জাতীয় পার্টির (জেপি) তিনজন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) তিনজন, জাতীয় পার্টির (এরশাদ) একজন এবং দলীয় পরিচয় নেই এমন আট জন প্রার্থী হন।
ইসি কার্যালয় সূত্র জানা গেছে, দেশে প্রথমবারের মতো এ নির্বাচনের ভোটার সংখ্যা মাত্র ৬৩ হাজার ১৪৩ জন, এরমধ্যে পুরুষ ৪৮ হাজার ৩৪৩ এবং নারী ভোটার ১৪ হাজার ৮০০ জন। একজন চেয়ারম্যান, পাঁচ জন সংরক্ষিত সদস্য এবং ১৫ জন সাধারণ সদস্য নিয়ে জেলা পরিষদ গঠিত হবে। পার্বত্য তিন জেলা বাদে দেশের বাকি ৬১ জেলায় নতুন পরিষদ গঠন করেন আজকের ভোটের নির্বাচিতরা। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ভোটার চট্টগ্রাম জেলায় দুই হাজার ৭০৬ এবং সর্বনিম্ন ভোটার মেহেরপুরে ২৬৯ জন।
এ নির্বাচনে মোট প্রার্থীর সংখ্যা তিন হাজার ৯৩৮ জন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন ১৪৬, সংরক্ষিত সদস্য পদে ৮০৬ এবং সাধারণ সদস্য পদে দুই হাজার ৯৮৬ জন লড়াই করেন। ৬১টি জেলা পরিষদের ২১টিতে এরই মধ্যে চেয়ারম্যান পদের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন। এছাড়াও সংরক্ষিত সদস্য ৬৯ এবং সাধারণ সদস্য ১৬৬ জন ভোটের আগেই বিজয় নিশ্চিত করেছেন। এদিকে, কুষ্টিয়া জেলার চেয়ারম্যান পদের নির্বাচন আদালতের আদেশে স্থগিত করা হয়েছে।
এ নির্বাচনে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৯১৫টি। প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য একটি মোবাইল টিম এবং র্যা বের একটি মোবাইল টিম কাজ করেছে। এ ছাড়াও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় ৬১ জেলায় মোট ৯১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করেন।