নতুন নির্বাচন কমিশন-ইসি গঠনে রাষ্ট্রপতির গঠিত সার্চ কমিটির কাছে নাম জমা দিয়েছে ২৮টি রাজনৈতিক দল। এতে ১২০ জনের নাম দিয়েছে তারা।
সম্ভাব্য যে নামগুলো পাওয়া গেছে, নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য সার্চ কমিটিতে নাম জমা দিয়েছে ২৭টি রাজনৈতিক দল। বিভিন্ন তালিকায় যাদের নাম গেছে, তারা হলেন: সাবেক সচিব এম এ করিম, সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ, সাবেক সচিব মঞ্জুরুল হোসেন, মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামান, সাবেক তথ্য কমিশনার সাদেকা হালিম, সাবেক সচিব আসাফউদ্দৌলা, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ, আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক, সাবেক বিডিআর প্রধান লে. জেনারেল ফজলুর রহমান, সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ, তাসনিম এ রহমান, সাবেক কেবিনেট সচিব ড. সা’দত হুসাইন, সাবেক ইসি ব্রি. জে. (অব.) সাখাওয়াত হোসেন, সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবীর ও অধ্যাপক নাসিম আখতার হোসেন।
মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নামগুলো সার্চ কমিটিকে দেয়া হয়।
দুটি দল নাম না দিলেও চিঠি দিয়ে নাম না দেয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছে—কমিটির ছয় সদস্য সেগুলো যাচাই-বাছাই করতে বিকেল ৪টার দিকে সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে বৈঠকে বসেছেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম ও অতিরিক্ত সচিব আবদুল ওয়াদুদ সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে চিঠিগুলো নিয়ে যান।
অনুসন্ধান কমিটি মোট ৩১টি রাজনৈতিক দলের কাছে নাম চেয়ে চিঠি পাঠায়। এরমধ্যে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ ২৮টি দল পাঁচটি করে নাম জমা দিয়েছে। দুটি দল বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল—জাসদ (রব) চিঠি দিয়ে নাম না দেয়ার কারণ উল্লেখ করেছে।
আর নাম বা কোনো চিঠি দেয়নি এমন চারটি দল হলো ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ ও গণফোরাম।
মন্ত্রিপরিষদে চিঠি দেয়া ২৮টি দলের মধ্যে ২৫টি দলের মোট ১২০টি নাম পৌঁছানোর পর বৈঠক চলছে।
আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, লিবারেল ডেমোক্রেটি পার্টি (এলডিপি), কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ ন্যশনালিস্ট ফ্রণ্ট (বিএনএফ), ইসলামী ঐক্যজোট, জাতীয় পার্টি (জেপি), বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ), সাম্য বাদী দল, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), জাসদ (আম্বিয়া), বাসদ, গণতন্ত্রী পার্টি, খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ, গণফ্রন্ট, খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল) ও জাকের পার্টি।
গতকাল নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে দেশের বিশিষ্টজনদের সঙ্গে সার্চ কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সোমবার বিকেলে সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে শিক্ষাবিদ, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার, আইনবিদ, পর্যবেক্ষক, সমাজসেবীসহ নাগরিক সমাজের ১২ সদস্য নিয়ে এ বৈঠক শুরু হয়।
দেশের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার ১২ জন বিশিষ্টব্যক্তিরা হলেন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এ কে আজাদ চৌধুরী, এস এম এ ফায়েজ, আবুল কাশেম ফজলুল হক, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের বদিউল আলম মজুমদার, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এটিএম শামসুল হুদা, সাবেক দুই নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইন ও এম সাখাওয়াৎ হোসেন, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক নুরুল হুদা এবং হাইকোর্টের সাবেক বিচারপতি আব্দুর রশিদ।
নতুন ইসিতে একজন নারী সদস্যক থাকছে। ফলে সার্চ কমিটিতে নারীদের নামও প্রস্তাবে রাখতে বলেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।
বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যেির সার্চ কমিটি দলগুলোর কাছে পাওয়া নাম যাচাই বাছাই করে ৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তাদের সুপারিশ জমা দেবে। তাদের সুপারিশ থেকেই অনধিক পাঁচ সদস্যের ইসি নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।