বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠাতা--এ বিষয়ে যা বলেছি তা তথ্যভিত্তিক বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সংলাপ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলে তিনি।
সিইসি বলেন, কোনো দলকে খুশি করার জন্য এ ধরনের কথা বলা হয়নি এ কথা তিনি নিজে ধারণ করেন।
তিনি আরো বলেন, ৭৫'র পরে দেশে কোনো গণতন্ত্র ছিল না সেই ভিত্তিতেই জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন।
জিয়াউর রহমানকে নিয়ে দেয়া বক্তব্য কীভাবে তথ্যভিত্তিক, এর ব্যাখ্যাও দিয়ে বলেন, জিয়াউর রহমান যখন নতুন দল গঠন করেন, তার আগে ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত দেশে গণতন্ত্র ছিল না। ৭৫ পর্যন্ত গণতন্ত্র ছিল। সেই ভিত্তিতে জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন।
সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক দল, পর্যবেক্ষক, নারী নেত্রী ও সাবেক নির্বাচন কমিশনারসহ বিভিন্ন প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপ করে নির্বাচন কমিশন। এ সংলাপে প্রায় ৪ শতাধিক প্রস্তাব পেয়েছেন তারা।
সংলাপে চার শতাধিক সুপারিশ যদি এভাবে ভাগ করা যায়: কিছু সাংবিধানিক, কিছু আইনসংক্রান্ত আর কিছু নির্বাচন কমিশনের করণীয়।
সিইসি বলেন, এর মধ্যে যেসব সুপারিশ নির্বাচন কমিশনের নিজের পক্ষে বাস্তবায়ন করা সম্ভব, সেগুলো ইসি বাস্তবায়ন করবে যেগুলো সুপারিশের জন্য আইন প্রণয়ন করতে হবে, সেগুলো সরকারের মাধ্যমে জাতীয় সংসদে পাঠানো হবে আর যেগুলো সংবিধানসংক্রান্ত বিষয়, সেগুলো সরকারের কাছে পাঠানো হবে।
হুদা বলেন, সরকার যদি এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন না করে তাহলে তাদের ওপর চাপ দেয়ার বা বাধ্য করার সুযোগ নেই কমিশনের।
নির্বাচন কমিশনের ওপর সরকারের কোনো চাপ নেই বলে দাবি করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা যদি আসেও তা প্রত্যাখ্যান করা হবে।
তবে নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের বিষয়টি পরিবেশ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছেও বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
বিদ্যমান আইনেই সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন সিইসি।
সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম, শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, কমিশনের ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলাল উদ্দিন আহমদ উপস্থিত ছিলেন।