আসন্ন গাজীপুর সিটি করপোরেশন (জিসিসি) ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করার কোনো সিদ্ধান্ত নেই বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।
বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
ইসি সচিব ব্রিফিংয়ে বলেন, গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দিন ওই এলাকার সব শিল্প কারখানা বন্ধ থাকবে—তবে সেখানে কোনো সেনা মোতায়েন হবে না।
কমিশন সচিব বলেন, প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত র্যা ব, পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করে ভোটের মাঠের পরিস্থিতি সামাল দেয়ার ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আগামী ১৫ মে দুই নগরে হতে যাওয়া এ নির্বাচনে বিএনপি নেতারা সিইসির সঙ্গে দেখা করে সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়ে লিখিত প্রস্তাব দিয়েছেন অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সেনা বাহিনীর বিপরীতে অবস্থান নেয়।
সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, কমিশনের প্রতি আস্থা রয়েছে বলেই বিএনপি ভোটে অংশ নিচ্ছে। আস্থা আছেই বলেইআ তারা তো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী, দল ও প্রার্থীসহ সবাইকে সিইসি বলেছেন- প্রচারে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।
এদিনের বৈঠকের কার্যপত্রে বলা হয়, গাজীপুর সিটি করপোরেশনে পুলিশ-এপিবিএন-আনসার ব্যাটালিয়ান সদস্য নিয়ে গঠিত মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে ১৯টি। এছাড়া র্যা বের ৫৭টি টিম ও ২৯ প্লাটুন বিজিবি থাকবে।
আচরণ বিধিমালা প্রতিপালন ও নির্বাচনী অপরাধে তাৎক্ষণিক সাজা দিতে গাজীপুরে ৮৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ১৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন করা হবে।
এদিকে, খুলনা সিটি করপোরেশনে পুলিশ-এপিবিএন-আনসার ব্যাটালিয়ান সদস্য নিয়ে গঠিত ১০টি মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স, র্যা বের টিম থাকবে ৩১টি; বিজিবি থাকবে ১৬ প্লাটুন। এছাড়া এ সিটিতে ৪৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ১০জন বিচাকির ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের প্রতিটি প্লাটুন গঠন করা হয় ২০ থেকে ৩০ জন সদস্য নিয়ে। ভোটের মাঠে প্রতি প্লাটুনে কতজন থাকবেন তা এলাকা অনুযায়ী ঠিক করা হবে।
আগামী ১৫ মে খুলনা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনে নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হবে।
শুরু থেকে এ দুই সিটিতে সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়ে আসছে বিএনপি।
নির্বাচন ভবনে বেলা ১১টা থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে চার নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, বিজিবি-র্যা বের মহাপরিচালকসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় কমিশমনার, খুলনা-গাজীপুরের প্রশাসন-পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা, রিটার্নিং কর্মকর্তারা বৈঠক করেন।