কিছু অনিয়ম ছাড়া ৩ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা।
সোমবার ৩ সিটিতে ভোটগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
এ সময় তিনি বলেন, যেকয়টি কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে তা তদন্ত করা হবে।
সোমবার একযোগে রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সকাল ৮টায় শুরু হয়ে ভোটগ্রহণ চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।
তিন সিটিতে মেয়র পদে মোট ১৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। আর মোট ভোটার সংখ্যা ৮ লাখ ৭৪ হাজারেও বেশি। এর মধ্যে ৩০৬টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নির্বাচনে ১৫টি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। এ দিন নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক)
রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মোট ২১৭ জন প্রার্থী বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এরমধ্যে মেয়র পদে প্রার্থী রয়েছেন পাঁচ জন। আর ৩০টি সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে আছেন ১৬০ জন। এছাড়া ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর পদের প্রার্থী ৫২ জন।
রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন (নৌকা), বিএনপি মনোনীত মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির (জাপা) হাবিবুর রহমান (কাঁঠাল), গণমঞ্চ ও গণসংহতি আন্দোলনের অ্যাডভোকেট মুরাদ মোর্শেদ (হাতি) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শফিকুল ইসলাম (হাত পাখা)।
এই সিটি করপোরেশনে মোট ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ১৮ হাজার ১৩৮ জন। মোট ভোটারের মধ্যে এক লাখ ৬২ হাজার ৫৩ জন নারী ভোটার এবং পুরুষ ভোটার এক লাখ ৫৬ হাজার ৮৫ জন।
মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৩৮টি এবং বুথের সংখ্যা এক হাজার ২০টি।
সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)
সাতজন মেয়র প্রার্থীসহ সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিভিন্ন পদে ১৯৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করেছেন। এ সিটিতে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১২৭ জন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৬২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সিলেটে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগের বদর উদ্দিন আহমদ কামরান (নৌকা), বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী, নাগরিক ফোরামের ব্যানারে স্বতন্ত্র মেয়রপ্রার্থী নগর জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের (টেবিল ঘড়ি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ডা. মো. মোয়াজ্জেম হোসেন (হাত পাখা), সিপিবি-বাসদ মনোনীত মেয়রপ্রার্থী আবু জাফর (মই), সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. এহছানুল হক তাহের (হরিণ)।
তবে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মো. বদরুজ্জামান সেলিম নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
সিলেট সিটি করপোরেশনে তিন লাখ ২১ হাজার ৭৩২ জন ভোটার রয়েছেন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৭১ হাজার ৪৪৪ এবং নারী ভোটার এক লাখ ৫০ হাজার ২৮৮ জন।
২৭টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১৩৪টি ভোটকেন্দ্র এবং ৯২৬টি ভোট কক্ষ রয়েছে।
বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন (বিসিসি)
বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সাতজন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে মাঠে রয়েছেন ছয়জন প্রার্থী। স্বতন্ত্র প্রার্থী বশিরুল হক ঝুনু নির্বাচন থেকে সরে গিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছেন।
বরিশালে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ, ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির মজিবর রহমান সরওয়ার, লাঙল প্রতীকে জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কৃত ইকবাল হোসেন (তাপস), মই মার্কায় বাসদের ডা. মনীষা চক্রবর্তী, হাত পাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি ওবাইদুর রহমান (মাহবুব), কাস্তে প্রতীকে সিপিবির অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ।
বরিশাল সিটিতে সাধারণ ৩০টি ওয়ার্ডের মধ্যে তিনটিতে ও একটি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। বাকি ২৭টি সাধারণ ওয়ার্ডে ৯১ জন ও নয়টি সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৩৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
বরিশাল সিটি নির্বাচনে মোট দুই লাখ ৪২ হাজার ১৬৬ জন ভোটারের মধ্যে এক লাখ ২০ হজার ৭৩০ জন নারী ও এক লাখ ২১ হাজার ৪৩৬ জন পুরুষ রয়েছেন। এখানে ১২৩টি ভোট কেন্দ্রের ৭৫০টি ভোট কক্ষ।
গত শনিবার মধ্যরাত থেকেই এসব নগরীতে বহিরাগতদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে যানবাহন চলাচলেও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।