বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনারের মধ্যে মতবিরোধ থাকলেও জাতীয় নির্বাচন পরিচালনার কাজ কঠিন হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
তবে কমিশন সভায় কথা বলতে দেয়া হয়নি নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের অভিযোগের কোনো জবাব দেননি তিনি।
একজন নির্বাচন কমিশনারের সভা বর্জন ও মতানৈক্যে একাদশ সংসদ নির্বাচনে কোনো প্রভাব পড়বে কিনা বা কাজ করা কঠিন হবে কিনা- জানতে চাইলে সিইসি বলেন, ‘না’ কঠিন হবে না।
এদিকে, মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তারা নির্বাচন পরিচালনায় স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর থেকে সহযোগিতা পাচ্ছেন বলেও জানান সিইসি।
আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে সকালে আগারগাঁও কমিশন ভবনে মাঠপর্যায়ের নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা।
সভা শেষে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে মতবিরোধ থাকলেও জাতীয় নির্বাচন পরিচালনার কাজ কঠিন হবে না বলে মনে করেন সিইসি।
সিইসি বলেন, ভোটার তালিকা, ভোটকেন্দ্রসহ তিন–চারটি বিষয়ে তারা কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চেয়েছেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন,সার্বিকভাবে পরিস্থিতি সন্তোষজনক।
গতকাল ‘নোট অব ডিসেন্টে’ মাহবুব তালুকদার লেখেন, বাকস্বাধীনতা ও ভাবপ্রকাশের স্বাধীনতা সংবিধান প্রদত্ত আমার মৌলিক অধিকার। নির্বাচন কমিশন কোনোভাবেই আমার এই অধিকার খর্ব করতে পারে না। তিনি বলেন, এমতাবস্থায় অনন্যোপায় হয়ে আমি নির্বাচন কমিশনের এরূপ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নোট অব ডিসেন্ট প্রদান করছি এবং এর প্রতিবাদস্বরূপ কমিশনের সভা বর্জন করছি।
নির্বাচন কমিশনের একটি সূত্র জানায়, মাহবুব তালুকদার তার বক্তব্যে নির্বাচনে সেনা মোতায়েন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন, নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা বৃদ্ধি, সরকারের জন্য নির্বাচন নিয়ে সংলাপসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করতে চেয়েছিলেন।
প্রায় দেড় মাস পর গতকাল নির্বাচন কমিশনের সভা হয়। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি ও তফসিল নিয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে।
সর্বশেষ গত ৩০ আগস্ট নির্বাচন কমিশনের সভা হয়। ওই সময় আগামী সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারে আইন সংশোধনের প্রস্তাবে আপত্তি দিয়ে সভা ত্যাগ করেন মাহবুব তালুকদার।