আগামী ৩০ ডিসেম্বরই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট হবে— নির্বাচন আরো তিন সপ্তাহ পেছাতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের করা প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে কমিশন।
তাদের প্রস্তাব যুক্তিসঙ্গত ও বাস্তবসম্মত না হওয়ায় কমিশন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।
নির্বাচনের দুই দিন আগে সেনা মোতায়েন হবে বলে বৃহস্পতিবার সকালে ইসি সচিব জানালেও পরে এ বক্তব্য থেকে সরে আসেন তিনি।
প্রতীকের বিষয়ে আওয়ামী লীগ, বিএনপি দেয়া রাজনৈতিক দলের তালিকা প্রসঙ্গেও কথা বলেন ইসি সচিব।
নির্বাচনের তারিখ পেছানোর প্রস্তাব নিয়ে বুধবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা ও অন্য চার কমিশনারের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা ভোট আরো তিন সপ্তাহ পেছানোর দাবি করেন।
তবে বৈঠকের একদিন পরই ঐক্যফ্রন্টের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
আগামী ৩০ ডিসেম্বরই নির্বাচন হচ্ছে— কমিশনের এই সিদ্ধান্ত সাংবাদিকদের জানান ইসি সচিব।
এক্ষেত্রে আইনি ও সাংবিধানিক বিধি-নিষেধও তুলে ধরেন ইসি সচিব।
এসময় নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের বিষয়েও কমিশনের সিদ্ধান্তের কথা জানান।
এদিকে, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে ইচ্ছুক দলের তালিকা কমিশন পেয়েছে বলেও সাংবাদিকদের জানান হেলালুদ্দীন আহমদ।
বিকেলে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবে বলে ইসিকে চিঠি দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।
সকালের তথ্য:
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ২ থেকে ৩ দিন বা ৭ থেকে ১০ দিন আগে নির্বাচনী এলাকায় সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকবে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।
বৃহস্পতিবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে সংসদ নির্বাচনের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের ব্রিফিং ও দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনে তিনি এ কথা বলেন।
পুনঃতফসিল অনুযায়ী, ৩০ ডিসেম্বর ভোট দিন রেখে ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত মনোনয়ন দাখিল করা যাবে। ২ ডিসেম্বর বাছাই, প্রার্থিতা প্রত্যাহার ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত আর ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ। এরপর আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করতে পারবেন প্রার্থীরা।
এ সময় ইসি সচিব বলেন, নির্বাচন পূর্বকালীন সময়ে অর্থাৎ নির্বাচনের একসপ্তাহ বা দশ দিন আগে সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকবে এবং বিজিবি মোতায়েন হবে। সুতরাং তাদের থাকার ব্যবস্থাসহ সব প্রস্তুতি এখন থেকে নিতে হবে। কোথায় প্রিজাইডিং অফিসারদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে, সেটা এখন থেকে ঠিক করে রাখতে হবে এবং যেখান থেকে ফলাফল ঘোষণা করা হবে, এখন থেকে ঠিক করে রাখতে হবে। আর কোথায় থেকে নির্বাচনী মালামাল সরবরাহ করা হবে সেটার ব্যবস্থাও করতে হবে।
হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, নির্বাচনি এলাকায় বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড(বিজিবি) মোতায়েন করা হবে।
শুরু থেকেই বিএনপিসহ ঐক্যজোট এ সংসদ নির্বাচনে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়ে আসছে। এদিকে, এর বিরোধিতা করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ জানিয়েছে, ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ সেনা মোতায়েন করার কোনো সুযোগ নেই। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে তারা দায়িত্ব পালন করতে পারে।
গত ৮ নভেম্বর প্রথম দফা তফসিল ঘোষণার দিন জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা বলেন, এবার সেনা মোতায়েন হবে আগের মতোই অর্থাৎ সেনাবাহিনীর বিচারিক ক্ষমতা থাকবে না।
তিনি বলেন, নির্বাচন চলাকালে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে বেসামরিক প্রশাসনকে যথা-প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার বিধানের অধীনে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন থাকবে।