একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্রের বৈধতা ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনে সব মিলিয়ে ৫৩৪টি আপিল জমা পড়েছে।
আপিলের তৃতীয় দিনে-বুধবার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মোট ২২৬ জন সংক্ষুব্ধ প্রার্থীর পক্ষে আপিল জমা পড়েছে।
এখানে রির্টানিং কর্মকর্তার বৈধ হওয়া প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের জন্যও আবেদন জমা পড়েছে। সংক্ষুব্ধ প্রার্থীদের দাবি কমিশনে তারা ন্যায় বিচার পাবেন।
বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হবে আপিল নিষ্পত্তির কার্যক্রম।
ঋণ খেলাপি, হলফ নামায় ভুল, তথ্য গোপন, স্বাক্ষরে গরমিলসহ নানা কারণে রিটার্নিং কর্মকর্তারা সারাদেশের ৭৮৬ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করেন। এসব প্রার্থীদের অনেকেই বুধবার সকাল থেকেই নির্বাচন কমিশনে এসে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের জন্য ভিড় জমান।
আপিলের তৃতীয় দিনে বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগ এবং স্বতন্ত্রসহ মোট ২২৬ সংক্ষুব্ধ প্রার্থীর পক্ষে আপিল জমা পড়ে।
তাদের অভিযোগ, অযৌক্তিক ও অন্যায়ভাবে রিটার্নিং কর্মকর্তারা তাদের মনোয়নপত্র বাতিল করেছেন।
কমিশনে ন্যায় বিচার পাবেন বলে আশা তাদের।
দুপুরে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষে বগুড়া-৬, বগুড়া-৭ ও ফেনী-১ এই তিন আসনে বাতিল হওয়া রিটার্নিং কর্মকর্তার আদেশের বিরুদ্ধে ৩টি আপিল করেন তার আইনজীবীরা।
কমিশনে আইনের যথাযথ প্রয়োগ হবে এবং বিএনপি নেত্রী প্রার্থিতা ফিরে পাবেন বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
রির্টানিং কর্মকর্তাদের বৈধ ঘোষণা করা প্রার্থীর বিরুদ্ধেও আপিল জমা পড়েছে কমিশনে। বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস, আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য পঙ্কজ দেবনাথের মনোনয়নের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা।
আপিল গ্রহণ কার্যক্রম ঠিকভাবে হচ্ছে কী না তা পর্যবেক্ষণ করেন কমিশনার ও ইসি সচিব।
বিকেলে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তিন দিনে মোট ৫৩৪টি আপিল জমা পড়েছে।
শুনানির মাধ্যমে কমিশন এসব আপিল নিষ্পত্তি কার্যক্রম শুরু করবে বৃহস্পতিবার— চলবে ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত। কমিশনের আদেশের বিরুদ্ধে প্রার্থীরা উচ্চ আদালতেও যেতে পারবেন।