একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীদের নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চলছে শেষ দিনের শুনানি।
শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা নেতৃত্বে এজলাসে শুনানি শুরু হয়েছে।
শনিবার ৩১১ থেকে ৫৪৩ ক্রমিকের আপিল শুনানির মধ্যে দিয়ে আপিল পর্ব শেষ হবে। এ দিন তিনটি আসনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আপিল আবেদনেরও শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
তারমধ্য হেভিওয়েট প্রার্থীর মধ্যে বিএনপি চেয়ারপাসন খালেদা জিয়া, দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আপিল আবেদনও রয়েছে।
ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, সকাল ১০টা থেকে আপিল আবেদন দাখিলের ক্রমানুসারে শুনানি চলে।
গত ৩ থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫৪৩ জন প্রার্থী আপিল আবেদন করেন ইসিতে। এরমধ্যে ১৫৮ জন প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।
শুক্রবার মোট ১৫০টি আপিল আবেদনের শুনানি করে ৭৮টি আবেদন মঞ্জুর করে নির্বাচন কমিশন। ৬৫ জনের ক্ষেত্রে আপিল নামঞ্জুর হয়েছে।
নামঞ্জুর হওয়া ৬৫টি আপিল আবেদনের মধ্যে ৫৯ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। নির্বাচন কমিশন আপিল শুনানি করে সেই সিদ্ধান্তই বহাল রেখেছে। ফলে তারা নির্বাচন করতে পারছেন না।
আর ছয়টি আপিল হয়েছিল ছয় জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে। সেসব আপিলও নামঞ্জুর হয়েছে। ফলে ওই ছয়জনের প্রার্থিতা বৈধ থাকছে।
সাতটি আপিল আবেদনের শুনানি হলেও সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখেছে নির্বাচন কমিশন। শনিবারের মধ্যে তার নিষ্পত্তি করতে হবে।
শুক্রবার যারা প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন, তাদের মধ্যে অন্তত ২০ জন বিএনপির। গণফোরামের রেজা কিবরিয়া ও জাতীয় পার্টির সোহেল রানা এদিন নিজেদের পক্ষে রায় পেলেও জাতীয় পার্টির রুহুল আমিন হাওলাদার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ইমরান এইচ সরকারের নির্বাচন করার ভাগ্যে খোলেনি।
নির্বাচন ভবনের একাদশ তলায় সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত দ্বিতীয় দিনের শুনানি চলে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা, নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম ও শাহাদাত হোসেন চৌধুরী এইশুরনানি নেন।
জমা পড়া মোট ৫৪৩টি আপিলের মধ্যে আবেদনের ক্রমিক নম্বর অনুসারে তিন দিনে এই শুনানি চলছে। শুক্রবার ১৬১ থেকে ৩১০ নম্বর আপিলের শুনানি শেষ করে ইসি।
বৃহস্পতিবার শুনানির প্রথম দিন ১৬০ জনের আপিল শুনানি করে ৮০ জনের প্রার্থিতা ফিরিয়ে দেয় নির্বাচন কমিশন।
২ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে ২ হাজার ২৭৯টি মনোনয়নপত্র বৈধ ও ৭৮৬টি অবৈধ বলে ঘোষণা করেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এগুলোর মধ্যে বিএনপির ১৪১টি, আ’লীগের ৩টি এবং জাতীয় পার্টির ৩৮টি মনোনয়নপত্রও বাতিল হয়। স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে ৩৮৪টি।
৩৯টি দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলে এবার ৩০৬৫টি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিল। এর মধ্যে দলীয় মনোনয়নপত্র জমা পড়ে মোট ২ হাজার ৫৬৭টি ও স্বতন্ত্র ৪৯৮টি।
৯ ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়। ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ। আর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ৩০ ডিসেম্বর।