আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা পেতে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মনোনয়ন বাতিলে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা আপিলও সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের ভিত্তিতে খারিজ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
শনিবার আপিল শুনানির পর সন্ধ্যায় ইসি এ সিদ্ধান্ত নেয়। জ্যেষ্ঠ কমিশনার মাহবুব তালুকদার খালেদার মনোনয়ন বৈধ বলে রায় দিলেও প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্য তিন কমিশনার আপিলের বিরুদ্ধে রায় দেন।
ফলে খালেদার তিনটি আসনের মনোনয়নপত্রই বাতিল হলো। দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার কারণ দেখিয়ে খালেদার বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এতে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের ভিত্তিতে তিনটি আসনেই খালেদা জিয়ার মনোনয়ন বাতিল হয়ে যায়। ইসির এ রায়ের পর সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী হতে খালেদাকে এখন উচ্চ আদালতে যাওয়া ছাড়া আর উপায় রইলো না।
এর আগে দুপুরে দুই পক্ষের উত্তেজনার মধ্যে খালেদা জিয়ার আপিল আবেদনের ওপর শুনানি শেষে বিকেলে রায় দেয়ার কথা জানায় কমিশন।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে ফেনী-১ এবং বগুড়া-৬ ও ৭ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন ফরম জমা দেয়া হয়। তবে তিনি দণ্ডিত হওয়ায় রিটার্নিং কর্মকর্তারা তার মনোনয়নপত্র বাতিল বলে ঘোষণা করেন।
গত ২ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা ২ হাজার ২৭৯টি মনোনয়নপত্র বৈধ ও ৭৮৬টি অবৈধ বলে ঘোষণা করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩ থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫৪৩ জন প্রার্থী আপিল আবেদন করেন ইসিতে।
গত বৃহস্পতিবার থেকে এই আপিল আবেদনের শুনানি শুরু হয়। এর মধ্যে প্রথম দিন ১৬০টি আবেদনের ওপর শুনানি করে ৮০ জনের প্রার্থিতাকে বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। আর গতকাল শুক্রবার ১৫০টি আবেদনের ওপর শুনানি হয়। এর মধ্যে ৭৮ জন তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। পাশাপাশি এদিন ৬৫ জনের প্রার্থিতা বাতিল এবং সাতজনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখে নির্বাচন কমিশন। দু’দিনে মোট ১৫৮ জন তাদের মনোনয়ন ফিরে পান।
রোববার বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়। সোমবার চূড়ান্ত প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর পর থেকে প্রার্থীরা প্রচারণা শুরু করতে পারবেন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ নভেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ছিল। সেই সময় মোট ৩ হাজার ৬৫টি মনোনয়নপত্র দাখিল হয়েছিল। ২ ডিসেম্বর বাছাইয়ে ৭৮৬টি বাতিল হয়। যার অধিকাংশই ছিল স্বতন্ত্র প্রার্থীর। এর মধ্যে ৫৪৩ জন রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে নির্বাচন কমিশনে আপিল আবেদন করে। আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা হবে।