নির্বাচনী মাঠে ব্যস্ত সময় পার করেছেন রাজধানীর প্রার্থীরা— বড় দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার পর প্রচার-প্রচারণায় এসেছে নতুন মাত্রা। ইশতেহারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে ভোটারদের নিজ নিজ পক্ষে টানার চেষ্টা করছেন প্রার্থীরা।
পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ না করে ভোটারদের সংস্পর্শে গিয়ে উন্নত নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করার তাগিদ দিয়েছেন মহাজোট প্রার্থীরা। কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ থাকলে সেটা পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে সুরাহা করার কথাও বলেন তারা।
থেমে থেমে বৃষ্টি আর মৃদু শীত উপেক্ষা করে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন রাজধানীর বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা। ইশতেহারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছেন তারা।
ঢাকা-৮ আসনের মহাজোটের প্রার্থী রাশেদ খান মেনন বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় এক পথসভায় অংশ নেন। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের সমালোচনা করেন তিনি। আওয়ামীলীগের ইশতেহারে যেসব উন্নয়ন ও পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে তা তুলে ধরে ভোটারদের আবারো নৌকায় ভোট দেওয়ার আহবান জানান।
ঢাকা-৯ আসনের বিএনপি প্রার্থী আফোরোজা আব্বাসের মিছিলে সোমবার আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের হামলার অভিযোগের বিষয়ে বুধবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন ডাকেন একই আসনের মহাজোট প্রার্থী সাবের হোসেন চৌধুরী।
নির্বাচনী পরিবেশকে উন্নত করার জন্য সবপক্ষকে দায়িত্বশীল হওয়ার তাগিদ দেন তিনি।
কাঁদা ছোড়াছুড়ির রাজনীতি থেকে বেড়িয়ে এসে আলোচনার মাধ্যেমে একটি সুষ্ঠু সুন্দর নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করার কথাও বলেন তিনি। কোন অভিযোগ থাকলে তদন্তের করার কথা বলেন।
প্রতিপক্ষকে যেকোন ধরনের সহযোগিতা, প্রয়োজনে আলোচনায় বসতেও তিনি প্রস্তুত আছেন বলে জানান এই আওয়ামী লীগ প্রার্থী।
এদিকে, বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে রাজধানীর বাইরেও জোর নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রার্থীরা। দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চাইছেন। দিচ্ছেন উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি। মিছিল, পথসভা, উঠান বৈঠকের পাশাপাশি চলছে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ।
গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যেই গাজীপুর-৫ আসনে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে বুধবার সকালে গণসংযোগে বের হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী মেহের আফরোজ চুমকি। কালীগঞ্জ উপজেলার বাড়িয়া ইউনিয়নের কয়ের ও সিটি কর্পোরেশনের খিলগাঁওসহ বিভিন্ন স্থানে পথসভা ও নির্বাচনী সভা করেন তিনি। একই আসনের বিএনপি প্রার্থী ফজলুল হক মিলন কারাগারে থাকায় তার স্ত্রী শম্পা হক দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে স্বামীর পক্ষে প্রচারণায় বের হন।
কালীগঞ্জের ভাদার্তী, সোমবাজারসহ আশপাশের এলাকায় গিয়ে ভোট চান ও লিফলেট বিতরণ করেন তিনি।
সিলেট-১ আসনে মহাজোটের প্রার্থী ড. আবুল মোমেন নগরীর মদিনা মার্কেট এলাকায় গণসংযোগ করেছেন। আর ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী আব্দুল মুক্তাদির নগরীর নাইওরপুল থেকে শিবগঞ্জ পর্যন্ত প্রচারণা চালিয়েছেন।
মাগুরা-১ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী অ্যাডোভোকেট সাইফুজ্জামান শিখরের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছে ছাত্রলীগ। দুপুরে সদরের নতুন বাজার থেকে প্রচারণা শুরু করে লিফলেট বিতরণ ও ভোটারদের কাছে ভোট চান ছাত্রলীগের সভাপতি রেজোয়ানুল হক চৌধুরী শোভন।
নড়াইল-২ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী মাশরাফি বিন মর্তুজার পক্ষে ভোট চেয়ে সকালে শহরের চৌরাস্তা থেকে বর্ণাঢ্য মিছিল বের হয়। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ছাড়াও মাশরাফি ভক্তরা এ মিছিলে যোগ দেন।
আর নড়াইল-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মাশরাফির পক্ষে কাজ করার ঘোষণা দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফায়েকুজ্জামান ফিরোজ।
এদিকে, নেত্রোকোনা-৪ আসনে জোরেশোরেই চলছে আওয়ামী লীগ প্রার্থী রেবেকা মমিনের প্রচারণা। মিছিল, সভা, উঠান বৈঠক করা ছাড়াও ভোটারদের কাছে গিয়ে ভোট চাইছেন তিনি। প্রচারণার অংশ হিসেবে সকালে মদনের কাইটাইল বাজারে নির্বাচনী সভা করেন তিনি।
পঞ্চগড় -১ আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী মাজহারুল হক প্রধান সদর উপজেলা ও সদরে বেশ কয়েকটি উঠান বৈঠক ও গণসংযোগ করেছেন। আর বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার নওশাদ জমির সানি সদরের বাজার এলাকায় কর্মীদের নিয়ে বৈঠক ও গণসংযোগ করেছেন। এছাড়া পুরোদমে প্রচারণা ও গণসংযোগ করছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবু সালেক ও জাগপার প্রার্থী রাশেদ প্রধান।
মাদারীপুর -১ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী নূর-ই আলম চৌধুরী সকালে উমেদপুর ইউনিয়নের চান্দেরচর বাজারে নির্বাচনী পথসভা করেন। এ সময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি ২৫টি আসনে জামাত প্রার্থীদের ধানের শীষ প্রতীক দিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসান করেছে।
শীত আর বৃষ্টি উপেক্ষা করে দিন-রাত গণসংযোগ ও প্রচারণায় ব্যাস্ত কুমিল্লা-৫ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু।
শেরপুর-৩ আসনের ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল শ্রীবর্দীর রাণীশিমুল গ্রামে গণসংযোগে যান। সেখানে উঠান বৈঠক করতে গেলে পুলিশী বাধার মুখে পড়েন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এ সময় শফিউল আলম নামে এক সমর্থককে আটক করে পুলিশ।
রাজশাহী-২ আসনে মহাজোট সমর্থিত ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী ফজলে হোসেন বাদশা নৌকা প্রতীকের পক্ষে নগরীর ভাটাপাড়া, লক্ষ্মীপুরসহ বেশ কিছু এলাকায় গণসংযোগ করেন। করেন লিফলেট বিরতণ।
এ আসনে ঐক্যফ্রন্ট সমর্থিত বিএনপির প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনুও সকাল থেকে গণসংযোগ ও প্রচারণা শুরু করেন। তিনি নগরীর নিমতলা, ডিঙ্গেডবা, বহরমপুর মোড় এলাকার বিভিন্ন দোকান-পাট ও বাড়িতে গিয়ে ভোট চান।
সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গণসংযোগ ও প্রচারণায় ব্যাস্ত সময় পার করছেন প্রার্থী-সমর্থকরা। সকালে খুলনা -২ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ সালাহ উদ্দিন জুয়েল নগরীর ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন।
বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু গণসংযোগ করেন নগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের মির্জাপুর এলাকায়।
প্রচারণার নবম দিনে যশোর -৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত শহরের চৌরাস্তা মোড় থেকে বড়বাজার এলাকা পর্যন্ত গণসংযোগ করেন। তিনি ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে সবার কাছে ভোট চান।
কুমিল্লা-১ আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মেজর জেনারেল সুবিধ আলী ভূইয়ার পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছে তারকা শিল্পীরা। সকালে দাউদকান্দি উপজেলা বাজারে শিল্পীরা প্রচারণায় অংশ নেন। এসময় সংক্ষিপ্ত পথ সভায় রাসেল স্কায়ার এলাকায় ভোটারদের কাছে ভোট চান তারা।
ভোলা-২ আসনে নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে বড় দুইটি দলের প্রার্থীরা একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এনেছেন। বিএনপি প্রার্থী হাফিজ ইব্রাহিম অভিযোগ করেছেন, প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের কর্ম-সমর্থকদের বাধার মুখে নির্বাচনী প্রচারণায় নামতে পারছেন না।
নিজ বাসায় তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। বোরহান উদ্দীন উপজেলায় নিজ বাড়ি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
এদিকে, বিএনপি প্রার্থীর এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী আলী আজম মুকুল।