একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন টাঙ্গাইল-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী।
রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার সঙ্গে দেখা করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি।
এক সময় সাবেক এ ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য পদ হারিয়ে দশম সংসদ থেকে সংসদ পদও হারান।
এ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতীক বরাদ্দও পান তিনি। সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেও ব্যালটে তার নাম ও প্রতীক ছাপানো হবে আইন অনুযায়ী প্রতীক পাওয়ার পর নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো পথ নেই।
পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমি আর নির্বাচন করছি না— কারণ মাঠ নির্বাচন করার মতো সমতল নয়। আমার নিরীহ লোকদের প্রতিনিয়ত গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। যারা সমর্থক তাদের পুলিশ প্রতিনিয়ত টেলিফোন করে ভয় দেখাচ্ছে। এরপরে ইলেকশন করা যায় নাকি?
তিনি আরও বলেন, ইলেকশনটা তো বাণিজ্য নয়। আমি জীবনে অনেক ইলেকশন করেছি। ১৯৭০ সাল থেকে শুরু করেছি আজ ২০১৮ সাল- এই রকম নির্বাচন আমার এলাকায় আমি জীবনেও দেখিনি।
তিনি বলেন, সিইসির সঙ্গে দেখা বলেছি আপনি যে পরিচালনাটা করছেন এ পরিচালনায় আপনি ব্যর্থ। এই পরিচালনায় নির্বাচন হতে পারে না। তাই আমি মাঠ ছেড়ে দাঁড়ালাম।
তিনি বলেন, আমি তাকে (সিউসি) বলে দিয়ে আসলাম আপনি স্বীকার করুন আর না করুন আপনি ব্যর্থ।
তিনি বলেন, ওসির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে।
সরে দাঁড়ানোর বিষয়ে একটি লিখিত পত্রও সিইসি বরাবর জমা দেন তিনি। এতে নির্বাচনী পরিস্থিতির অবনতির কারণ দেখিয়ে সরে দাঁড়ানোর কথা বলেন লতিফ সিদ্দিকী।
গত ১৬ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী লতিফ সিদ্দিকীর গাড়িবহরে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়া উনিয়নের সরাতৈল এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। তারপর থেকে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকতার অফিসের সামনে অবস্থান ধর্মঘট পালন করেন। পরে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর মহাজোট সরকারে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। পরে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্যও হন তিনি। ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টাঙ্গাইল-৪ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এ সময় তিনি তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কের একটি অনুষ্ঠানে হজ, তাবলিগ জামাত এবং দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ সম্পর্কে বেফাঁস মন্তব্য করে দেশ ও বিদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সর্বোচ্চ সমালোচিত হন আবদুল লতিফ সিদ্দিকী।
এ কারণে ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে দল থেকে বহিষ্কার ও মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ করা হয়। পরবর্তীতে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে দেশের বিভিন্ন এলাকায় তার নামে বেশ কয়েকটি মামলা হয়। এ অভিযোগেই তিনি দেশে ফিরে আত্মসমর্পণও করেন। কয়েক মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান। কারাগার থেকে মুক্ত হয়েই তিনি সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ৩১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত এ আসনের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়ে হাসান ইমাম খান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।