একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শুক্রবার প্রচার প্রচারণা শেষ এখন শুধুই ভোটের অপেক্ষা।
আগামী রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ২৯৯ আসনে টানা ভোটগ্রহণ চলবে।
প্রায় সাড়ে ১০ কোটি ভোটার ওইদিন নিজের রায় দিবে কে চালাবে আগামী পাঁচ বছর দেশের শাসন ক্ষমতা।
গত ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দের পর সারাদেশে আনুষ্ঠানিক ভোটের প্রচার শুরু হয়।
আজ -শুক্রবার সকাল ৮টায় প্রচারণা শেষ হওয়ায় গতকাল গভীর রাত পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটেন প্রার্থীরা।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত কোনো ধরনের সভা, সমাবেশ, মিছিল বা শোভাযাত্রা করা যাবে না।
ভোটের দিন ২৪ ঘণ্টা নির্বাচনী এলাকায় ট্যাক্সি ক্যাব, বেবিট্যাক্সি/অটোরিকশা, মাইক্রোবাস, জিপ, পিকআপ, কার, বাস, ট্রাক, টেম্পো, লঞ্চ, ইজিবাইক, ইঞ্জিনবোট ও স্পিডবোট চলাচলের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থাকবে শনি থেকে সোম তিন দিন।
ব্যালট পেপারসহ প্রয়োজনীয় নির্বাচনী সামগ্রী জেলায় জেলায় পাঠানো হচ্ছে। ভোটের আগের দিন শনিবার তা রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তর থেকে পৌঁছে দেয়া হবে ভোটকেন্দ্রে।
আদালতের আদেশে বা অন্য কোনো কারণে শেষ মুহূর্তে ব্যালট পেপারে পরিবর্তন আনতে হলে তা নতুন করে ছাপাতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। তারপর তা পৌঁছে দেয়া হবে হেলিকপ্টারে।
নিবন্ধিত ৩৯ দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে এবার এক হাজার আটশর বেশি প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ে আছেন। এর মধ্যে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল ও জোটের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ছড়িয়েছে উত্তাপ। তাই নির্বাচন নিয়ে জনমনে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থেকেই যাচ্ছে।
একাদশ সংসদ নির্বাচন তথ্য:
কোন দলের কত প্রার্থী
এলডিপি ৮ (ধানের শীষ ৪), জেপি ১১ (মহাজোট ২), সাম্যবাদী দল ২, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ৯ (ধানের শীষ ৪), সিপিবি ৭৪, আওয়ামী লীগ ২৬১ (নৌকা ২৭৪), বিএনপি ২৭২ (ধানের শীষ ২৯৭), গণতন্ত্রী পার্টি ৬, ন্যাপ ৯, জাতীয় পার্টি ১৭৬ (মহাজোট ২৫), বিকল্পধারা ২৫ (নৌকা ৩), ওয়ার্কার্স পার্টি ৮ (নৌকা ৫), জাসদ ১২ (নৌকা ৩), জেএসডি ১৯ (ধানের শীষ ৪), জাকের পার্টি ৯০, বাসদ ৪৫, বিজেপি ৩ (ধানের শীষ ১), তরিকত ফেডারেশন ১৭ (নৌকা ১), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ২৩, বাংলাদেশ মুসলীম লীগ ৪৮, এনপিপি ৭৯, জমিয়াতে উলামায়ে ইসলাম ৮ (ধানের শীষ ৩), গণফোরাম ২৭ (ধানের শীষ ৭), গণফ্রন্ট ১৩, পিডিপি ১৪, বাংলাদেশ ন্যাপ ৩, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি ১১, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ ১৮, কল্যাণ পার্টি ২ (ধানের শীষ ১), ইসলামী ঐক্যজোট ২৪, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৫, ইসলামী আন্দোলন র্ংলাদেশ ২৯৮, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ২৫, জাগপা ৪, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ২৮, খেলাফত মজলিস ১২ (ধানের শীষ ২), বিএমএল ১, মুক্তিজোট ২, বিএনএফ ৫৭ জন।
১. মনোনয়ন দাখিলের শেষ সময় ছিল ২৮ নভেম্বর, প্রত্যাহারের শেষ সময় ছিল ৯ ডিসেম্বর, ভোট ৩০ ডিসেম্বর।
২.এক প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় ৩০০ আসনের মধ্যে রোববার ভোট হবে ২৯৯ আসনে। বাকি থাকা গাইবান্ধা-৩ আসনে ২৭ জানুয়ারি ভোটের তারিখ নির্ধারণ করেছে ইসি।
৩. ঢাকা-৬, ঢাকা-১৩, চট্টগ্রাম-৯, রংপুর-৩, খুলনা-২ এবং সাতক্ষীরা-২ আসনে এবার ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ হবে। বাকি ২৯৩টি আসনে ভোট হবে সনাতন পদ্ধতিতে ব্যালট পেপার ব্যবহার করে।
৪.এ নির্বাচনে ভোটার রয়েছেন ১০ কোটি ৪২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৭৩ জন। এর মধ্যে ৫ কোটি ২৫ লাখ ৭২ হজার ৩৬২ জন পুরুষ; ৫ কোটি ১৬ লাখ ৬৬ হাজার ৩১১ জন নারী।
৫. ৪০ হাজার ৫১টি কেন্দ্রের ২ লাখ ৫ হাজার ৬৯১টি ভোটকক্ষে এবার ভোটগ্রহণ হবে।
৬.১ হাজার ৮৪৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৭৪৯ জন দলীয় মনোনয়নে এবং ৯৯ জন স্বতন্ত্র হিসেবে ভোট করছেন এবার।
৭.এবার জাতীয় নির্বাচনে ৬ লাখ ৬২ হাজার ১১৯ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছে। তাদের মধ্যে প্রিসাইডিং অফিসার ৪০ হাজার ১৮৩জন, সহকরী প্রিসাইডিং অফিসার ২ লাখ ৭ হাজার ৩১২ জন এবং পোলিং অফিসার ৪ লাখ ১৪ হাজার ৬২৪জন।
৮. নির্বাচনে তিন স্তরের নিরাপত্তায় বিভিন্ন বাহিনীর ৫ লাখ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে প্রায় ২ লাখ পুলিশ, দুই লাখের বেশি আনসার, ১০ হাজার র্যা ব, ১২০০ প্লাটুন বিজিবি রয়েছে। ৩৮৯টি উপজেলায় সেনাবাহিনী এবং ১৮ জেলায় নৌবাহিনী-কোস্টগার্ড সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
১০. দেড় হাজার নির্বাহী ও বিচারিক হাকিম মাঠে থাকছেন ভোটের মাঠে; রয়েছে ১২২টি নির্বাচনী তদন্ত কমিটি। নির্বাচন পর্যবেক্ষকের সংখ্যা এবার প্রায় ২৫ হাজার।