নির্বাচন

রাজধানীর পরই নির্ভর করছে কে করবে সরকার গঠন

চারিদিকে নির্বাচনী আমেজ, নজর এখন রোববারের দিকে
চারিদিকে নির্বাচনী আমেজ, নজর এখন রোববারের দিকে

সরকার গঠনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর রাজধানী ওএর আশপাশের ৫টি জেলা। ইতিহাস বলছে- এইসব জেলায় যে দল জয়ী হয়েছে সরকার গঠন করেছে তারাই।

বিগত ২০০১ সালে এ ৬টি জেলায় ৩৬টির মধ্যে ৩৩টি আসন নিয়ে সরকার গঠন করেছিল বিএনপি। আর ২০০৮-এর নির্বাচনে ৪০টি আসনের মধ্যে ৩৭টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছিল আওয়ামী লীগ। এবারের নির্বাচনেও এখানে মূল লড়াই হবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে।

ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী ও মুন্সিগঞ্জ। এ ৬টি জেলায় এবার সংসদীয় আসন ৪০টি। এসব আসনে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে নৌকা প্রতীকে ৩৬ জন, লাঙ্গল প্রতীকে ৪ জন এবং ধানের শীষে প্রতীকে ৩৬ জন।

আদালতের নির্দেশে প্রার্থিতা স্থগিত হওয়ায় ঢাকা-১ ও ২০ এবং নরসিংদী-৩ ও মানিকগঞ্জ ৩ আসনে এবার ধানের শীষ অর্থাৎ ঐক্যফ্রন্টের কোনো প্রার্থী নেই।

এ ৪০টি আসনে জয়ী হতে নবীন-প্রবীণ মিলে মহাজোট, ঐক্যফ্রন্ট ও যুক্তফ্রন্টের ৭৬ জন প্রার্থী ভোটযুদ্ধে নেমেছেন।

২০০১ সালে এ ৬টি জেলায় আসন ছিল ৩৬টি।

এরমধ্যে গাজীপুর ২ ও ৪ আওয়ামী লীগ এবং মানিকগঞ্জ ২ এ স্বতন্ত্র প্রার্থী ছাড়া বাকি ৩৩টি আসনে জয়ী হয়েছিল বিএনপি।

আর ২০০৮ এর নির্বাচনে সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র। ৪০টি আসনের ৩৭টিতে জয়ী হয় আওয়ামী লীগ আর ৩টিতে জাতীয় পার্টি।

২০০১ এবং ২০০৮ দুটি নির্বাচনই হয়েছিল সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। এবার হচ্ছে দলীয় সরকারের অধীনে। তাই এবারের ভোটের হিসাব-নিকাশ অন্যান্য বারের চেয়ে ভিন্ন।

ভোটের মাঠে মহাজোটের প্রার্থীদের সরব প্রচারণা থাকলেও নানাবিধ কারণে প্রচার প্রচারণায় দেখা যায়নি বিএনপিসহ ঐক্যফ্রণ্টের প্রার্থীদের।

সবকিছু মিলিয়ে ঢাকাসহ এ ৬টি জেলায় এবার কারা প্রাধান্য ধরে রাখতে পারবে তার পূর্বাভাস অনেকটাই দুরুহ। ভোটারদের মনোভাবের স্থিতি-পরিবর্তন চূড়ান্তভাবে জানা যাবে ব্যালটের মাধ্যমেই।

বরিশাল:

বরিশাল বিভাগের ২১ আসনে এবারও পাল্লা ভারী আওয়ামী লীগের। রোববারের নির্বাচনে এসব আসনে মোট প্রার্থী ১১৫ জন হলেও মূলত ভোটের লড়াই হবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যেই। তবে সাংগঠনিকভাবে প্রচার-প্রচারণায় বিএনপি অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। আবার বেশ কিছু আসনে মহাজোটের শরীকরা রয়েছেন শক্ত অবস্থান। নির্বাচনী মাঠে জোরালো অবস্থানে না থাকায় দক্ষিণাঞ্চলের অধিকাংশ আসনেই ২০০৮ সালের পুনরাবৃত্তি হবে বলে অনেকের ধারণা।

দক্ষিণাঞ্চলে পদ্মা সেতু ছাড়াও পায়রা বন্দর, তাপ বিদুৎকেন্দ্রসহ আগামী দিনে রেল লাইন চালু হওয়ার সম্ভাবনায় এতদিন অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চল ক্রমশ উন্নয়নের স্রোতে সামিল হচ্ছে। আর এসব উন্নয়নই আগামী নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলবে বলে অনেকের ধারণা।

ছয়টি জেলা নিয়ে গঠিত বরিশাল বিভাগে মোট আসন ২১টি। এরমধ্যে বরিশালে ৬, ভোলায় ৪, পটুয়াখালীতে ৪, বরগুনায় ২, পিরোজপুরে ৩ এবং ঝালকাঠীতে ২টি আসন রয়েছে।

গত ২০১৪ সালের নির্বাচনে ১৬টি আসনেই জয়ী হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। জাতীয় পার্টি ৩টি ও ওয়ার্কার্স পার্টি পায় একটি আসন।

অন্যদিকে ২০০৮ সালের নির্বাচনে বরিশাল বিভাগে আওয়ামী লীগ জয়ী হয় ১৫ টি আসনে। জাতীয় পার্টি ২টি, জেপি মঞ্জু ১টি, বিএনপি ২টি ও বিজেপি ১টি আসনে জয়ী হয়।

গত ১০ বছরে বিএনপি মাত্র ২টি আসন ধরে রাখায় তাদের সাংগঠনিক তৎপরতায় ব্যাপক ভাটা পড়েছে। বরিশাল-৫ আসন বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে এক সময়ে পরিচিতি লাভ করলেও এ বছর জুলাইয়ে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তাও ধরে রাখতে পারেনি দলটি। সিটি নির্বাচনে এক লাখেরও বেশি ভোটের ব্যাবধানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ বিজয়ী হন। সিটি নির্বাচনের ৬ মাসের মধ্যে হতে যাওয়া সংসদ নির্বাচনে এই ফলাফলের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনাই বেশী বলে অনেকের ধারণা।

এই মুহূর্তে দক্ষিণাঞ্চলে সাংগঠনিক প্রস্তুতির তুঙ্গে রয়েছে সরকারি দল। নির্বাচনের আওয়ামী লীগের প্রায় সব বিদ্রোহী প্রার্থীই তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এরফলে আওয়ামী লীগের ঐক্যবদ্ধ শক্তির প্রভাব ভোটের বাক্সে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভোলা ও পটুয়াখালীর ৮টি আসন, বরিশালের অন্তত ৩টি আসন ও বরগুনার অন্তত ১টি আসনে আওয়ামী লীগের বিজয়ের সম্ভাবনা বেশি। বরিশাল ৬, পিরোজপুর ২ এবং পিরোজপুর ৩ আসনে মহাজোট প্রার্থী ভাল ফল করবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। তবে বেশ কয়েকটিতে কিছুটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে বরিশাল ৩, ৫, ঝালকাঠী ১,২ এবং পিরোজপুর ১ আসন উল্লেখযোগ্য।

গত ১০ বছরে দলীয় কর্মীদের গণ গ্রেপ্তারের পাশাপাশি তেমন কোন সাংগঠনিক তৎপরতা না থাকায় আসন্ন নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপি পিছিয়ে রয়েছে বলে মত অনেকের। তবে চূড়ান্ত ফলাফল জানা যাবে রোববার ভোটের পরই।

ময়মনসিংহ:

আসন্ন নির্বাচনে ময়মনসিংহ বিভাগের অধিকাংশ আসনেই এগিয়ে রয়েছে আওয়ামী লীগ। চার জেলার ২৪টি সংসদীয় আসন নিয়ে এ বিভাগে ২০০৮ সালের নির্বাচন থেকেই আসনগুলো নৌকার দখলে। এবারের নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ মহাজোটের শরীকরা সবগুলো আসনেই জিততে চায়। আর জয়ে ফিরে ময়মনসিংহ বিভাগকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে চায় বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরীকরা।

২০১৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর দেশের অষ্টম বিভাগের মর্যাদা পায় ময়মনসিংহ বিভাগ। ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর ও নেত্রকোণা-এই চারটি জেলা নিয়ে বিভাগটি গঠিত। ২৪টি সংসদীয় আসনের বিভাগে মোট ভোটার ৮১ লাখ ৯ হাজার ৮৩৭ জন। ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ২ হাজার ৯২০টি। এবারের ভোট যুদ্ধে নয়টি রাজনৈতিক দলের ১২২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মূল লড়াই হবে নৌকা ও ধানের শীষ প্রতীকে।

২০০৮ সাল থেকে ময়মনসিংহের আসনগুলোতে আওয়ামী লীগের আধিপত্য। সেবার সবগুলো আসনেই জিতেছিল আওয়ামী লীগ। তবে ২০১৪ সালের নির্বাচনে ময়মনসিংহের চারটি ও জামালপুরের একটি আসনে জেতে মহাজোটের শরীক জাতীয় পার্টি। বাকিগুলোতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা জয় তুলে নেয়। এই বিভাগে ২৪টির মধ্যে ময়মনসিংহে ১১টি, জামালপুরে ৫টি, শেরপুরে ৩টি ও নেত্রকোনায় ৫টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে ময়মনসিংহ সদর, মুক্তাগাছা ও ফুলবাড়িয়া, জামালপুর সদর ও ইসলামপুর, শেরপুর সদর আর নেত্রকোণার আটপাড়া ও কেন্দুয়ায় মহাজোট এবং বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গত দুই নির্বাচনের মতো এবারও ময়মনসিংহে বিপুল ভোটে জয়ের আশা করছেন আওয়ামী লীগ ও মহাজোট প্রার্থীরা। আর জয়ে ফিরে বিভাগকে ঢেলে সাজাতে চায় বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট।

মহাজোটের ব্যাপক প্রভাব থাকলেও এবারের নির্বাচনে সমানে সমানে লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখছেন নাগরিক নেতারা।

নব-গঠিত ময়মনসিংহ বিভাগে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার মাহমুদ হাসান:

সিলেট:

চার জেলা মিলিয়ে গঠিত সিলেট বিভাগে রয়ছে ১৯টি আসন। প্রতিটি আসনেই নির্বাচন নিয়ে চলছে নানামুখী আলোচনা। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট না বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট-এবার কার পাল্লা ভারি? প্রত্যাবর্তন, নাকি পরিবর্তন- কোন দিকে রায় দেবেন সিলেটবাসী এ নিয়েই চলছে বিচার-বিশ্লেষণ।

জাতীয় নির্বাচনের প্রচারণা শেষে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন আসনে কোন প্রার্থী জয়ী হচ্ছেন, কোন দল আসছে ক্ষমতায় আলোচনা ও হিসাব-নিকাশ এখন সেসব নিয়েই।

সিলেট বিভাগের চারটি জেলায় মোট আসন ১৯টি। এরমধ্যে সিলেটে ছয়টি, মৌলভীবাজারে চারটি, সুনামগঞ্জে পাঁচটি ও হবিগঞ্জে চারটি আসন রয়েছে। ২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনে ১৯টি আসনেই জয়ী হয় আওয়ামী লীগ। অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে সিলেটকে নিজেদের ভোট ব্যাংক হিসেবে প্রমাণ করে দলটি।

গত ২০১৪ সালে নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে দাঁড়ায় বিএনপি। সে নির্বাচনে ১৯টি আসনের ১৪টিতেই জয়ী হন আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা। আর চার জেলার পাঁচটি আসনে জয়ী হন জাতীয় পার্টির প্রার্থী।

এবছর বিভাগের ১৯টি আসনের কয়েক জায়গায় আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এসব কোন্দল কাটিয়ে দলটি আসনগুলো ধরে রাখতে পারবে কিনা, তা নিয়েই চলছে আলোচনা। ১৯ আসনের ১৬টিতেই রয়েছে আওয়ামী লীগের প্রার্থী। ২টি আসনে মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টি লাঙ্গল প্রতীকে ও নৌকা প্রতীক নিয়ে ১টি আসনে নির্বাচন করছে বিকল্পধারা।

অন্যদিকে ঐক্যফ্রন্ট ১৮টি আসনেই ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছে। তবে, উচ্চ আদালতের নির্দেশে সিলেট-২ আসনে বিএনপি প্রার্থীর প্রার্থিতা স্থগিত হওয়ায় সেখানে ঐক্যফ্রন্টের কোনো প্রার্থী নেই।

প্রচার-প্রচারণার পুরো সময়েই মহাজোটের প্রার্থীদের এগিয়ে থাকতে দেখা গেছে। সে তুলনায় প্রচারণায় তেমন দেখা যাযনি ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীদের।

দেশটিভি/আরসি
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

৫৭টি জেলা পরিষদে নির্বাচন চলছে

আরআরএফ'র নতুন সভাপতি বাদল, সম্পাদক বাবলু

ইভিএমে ভোট জালিয়াতি হবে না, যাচাই করেই সিদ্ধান্ত: সিইসি

উপ-নির্বাচনে জামানত ২০ হাজার

জেলা পরিষদের ভোটার তালিকা প্রণয়নের নির্দেশ ইসির

ইভিএমে ত্রুটি আছে, দাবি সুজনের

সর্বোচ্চ ১৫০ আসনে ইভিএম: ইসি

গাইবান্ধা-৫ আসনে উপ-নির্বাচন ১২ অক্টোবর

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ