চার জেলা মিলিয়ে গঠিত সিলেট বিভাগে রয়ছে ১৯টি আসন। প্রতিটি আসনেই নির্বাচন নিয়ে চলছে নানামুখী আলোচনা। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট, না বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট- এবার কার পাল্লা ভারি? প্রত্যাবর্তন, নাকি পরিবর্তন- কোন দিকে রায় দেবেন সিলেটবাসী এ নিয়েই চলছে বিচার-বিশ্লেষণ।
জাতীয় নির্বাচনের প্রচারণা শেষে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন আসনে কোন প্রার্থী জয়ী হচ্ছেন, কোন দল আসছে ক্ষমতায় আলোচনা ও হিসাব-নিকাশ এখন সেসব নিয়েই।
সিলেট বিভাগের চারটি জেলায় মোট আসন ১৯টি। এরমধ্যে সিলেটে ছয়টি, মৌলভীবাজারে চারটি, সুনামগঞ্জে পাঁচটি ও হবিগঞ্জে চারটি আসন রয়েছে। ২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনে ১৯টি আসনেই জয়ী হয় আওয়ামী লীগ। অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে সিলেটকে নিজেদের ভোট ব্যাংক হিসেবে প্রমাণ করে দলটি।
২০১৪ সালে নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে দাঁড়ায় বিএনপি। সে নির্বাচনে ১৯টি আসনের ১৪টিতেই জয়ী হন আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা। আর চার জেলার পাঁচটি আসনে জয়ী হন জাতীয় পার্টির প্রার্থী।
এবছর বিভাগের ১৯টি আসনের কয়েক জায়গায় আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এসব কোন্দল কাটিয়ে দলটি আসনগুলো ধরে রাখতে পারবে কিনা, তা নিয়েই চলছে আলোচনা। ১৯ আসনের ১৬টিতেই রয়েছে আওয়ামী লীগের প্রার্থী। ২টি আসনে মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টি লাঙ্গল প্রতীকে ও নৌকা প্রতীক নিয়ে ১টি আসনে নির্বাচন করছে বিকল্পধারা।
অন্যদিকে ঐক্যফ্রন্ট ১৮টি আসনেই ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছে। তবে, উচ্চ আদালতের নির্দেশে সিলেট-২ আসনে বিএনপি প্রার্থীর প্রার্থীতা স্থগিত হওয়ায় সেখানে ঐক্যফ্রন্টের কোনো প্রার্থী নেই।
প্রচার-প্রচারণার পুরো সময়েই মহাজোটের প্রার্থীদের এগিয়ে থাকতে দেখা গেছে। সে তুলনায় প্রচারণায় তেমন দেখা যাযনি ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীদের।
খুলনা:
বিশ্বঐতিহ্য সুন্দরবন, সম্ভাবনাময় পাট ও চিংড়ি শিল্প, পদ্মাসেতু, মংলা নৌবন্দর ও বেনাপোল স্থলবন্দরের কারণে অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ খুলনা বিভাগ। নির্বাচনে এ বিভাগে ৩৬টি আসনই ভোটের মাঠ দখলে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট মরিয়া। বিগত নির্বাচনে ফলাফলে আওয়ামী লীগ এগিয়ে থাকলেও আগামীকালের নির্বাচনে বেশ কয়েকটি আসনে দুপক্ষের জোর লড়াই হবে বলে মনে করছেন অনেকে।
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম দিকের বিভাগ খুলনা, ১০ জেলা নিয়ে গঠিত। মধুমতি, ভৈরব, কপোতাক্ষের কোলজুড়ে এসব জেলার অবস্থান।
সংসদীয় ৩৬ আসনের এ বিভাগে খুলনা জেলায়ই রয়েছে ছয়টি আসন; এছাড়া বাগেরহাটে ৪, নড়াইলে ২, কুষ্টিয়া ৪, মাগুরা ২, মেহেরপুর ২, ঝিনাইদহ ৪, যশোর ৬, সাতক্ষীরায় ৪ এবং চুয়াডাঙ্গায় রয়েছে ২টি আসন।
ছয়টি আসনের খুলনা জেলার ৩,৪,৫, ও ৬ আসনে বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতার পালাবদল হলেও খুলনা ১ আসন বরাবরই আওয়ামী লীগের ঘাঁটি। এই আসন থেকে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাও নির্বাচন করেছেন। আর বিএনপির ঘাঁটি হচ্ছে খুলনা ২ আসন। এর আগে এ আসন থেকে নির্বাচন করেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তবে নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় ২০১৪ সালে এ আসনটি হারায় বিএনপি।
শুধু জেলা নয়, পুরো বিভাগে বরাবরই আওয়ামী লীগের অবস্থান দৃঢ়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ৩৬টি আসনের মধ্যে ৩০টি ছিল আওয়ামী লীগের দখলে। দুটিতে জাতীয় পার্টি আর একটি করে আসন পায় জাসদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী।
আর ২০১৪ সালে বিএনপি ভোট বর্জন করায় নির্বাচনে বিভাগের ৩১ টি আসনই চলে যায় আওয়ামী লীগের দখলে। আর একটি করে আসন পায় মহাজোটের শরীক দল ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাসদ। স্বতন্ত্র প্রার্থী পান তিনটি আসন।
এ পরিস্থিতিতে এবার বেশ কয়েকটি আসনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য খুলনা ২ আসন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ সাহাউদ্দিন জুয়েলের বিপরীতে সেখানে বিএনপিতে রয়েছেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
সাতক্ষীরা ৪ আসনের আওয়ামী লীগের এসএম জগলুল হায়দারের সঙ্গে বিএনপির জিএম নজরুল ইসলামের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এইচ এম গোলাম রেজার অবস্থানও বেশ দৃঢ়।
যশোর ৪ আসনেও আওয়ামী লীগ বিএনপির ভোটের লড়াই তুঙ্গে রয়েছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে এটি ছিলো বিএনপির দখলে। এখানে আওয়ামী লীগের হয়ে লড়ছেন রনজিত কুমার রায় এবং বিএনপির টিএস আইয়ুব।
ঝিনাইদহ ২ আসনে আওয়ামী লীগের তাহজীব আলম সিদ্দিকী এবং বিএনপি প্রার্থী আব্দুল মজিদের মধ্যেও ভোটের লড়াই বেশ জমে ওঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
খুলনা জেলাসহ বিভাগের ১০ জেলায় এবারের নির্বাচনের ভোট ভোটার ১ কোটি ১৬ লাখ ৫৮ হাজার ২২৭ জন। সবশেষ সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এবার ১০ লাখ ভোটার নতুন। তাই এবারের নির্বাচনে নতুন ও নারী ভোটাররা জয় পরাজয় নির্ধারনে বড় ফ্যাক্টট হবেন।