একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণের দিন সংঘর্ষের কারণে ফলাফল স্থগিত হওয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের তিনটি কেন্দ্রে পুনঃভোট চলছে।
জেলা প্রশাসক ও রির্টানিং অফিসার হায়াত উদ দৌলা খান জানিয়েছেন, বুধবার সকাল ৮টায় নির্ধারিত সময়ে ওই তিন কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।
গত ৩০ ডিসেম্বর সারাদেশে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ হয় তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের তিনটি কেন্দ্রে সংঘর্ষ হওয়ায় পুনঃভোট চলছে।
এসব আসনের ৪০ হাজার ৫১টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৬টি কেন্দ্র গোলযোগ ও অনিয়মের কারণে স্থগিত করা হয়।
এর মধ্যে আশুগঞ্জ উপজেলার যাত্রাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাহাদুরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং সোহাগপুর দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটগ্রহণ ব্যালট বাক্স ছিনতাই ও সংঘর্ষের কারণে স্থগিত হওয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের ফলাফল আটকে যায়।
সরাইল ও আশুগঞ্জ এলাকা নিয়ে গঠিত এ আসনে ১২৯ কেন্দ্রের ফলাফলে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে বিএনপির আবদুস সাত্তার ভূইয়া পেয়েছেন ৮২ হাজার ৭২৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মঈন উদ্দিন ‘কলার ছড়ি’ প্রতীকে পেয়েছেন ৭২ হাজার ৫৬৪ ভোট।
এ তিন কেন্দ্রে ভোটার রয়েছেন ১০ হাজার ৫৭৪ জন। আর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ১০ হাজার ১৫৯।
তত্ত্বীয়ভাবে এখনও দুই প্রার্থীর যে কারও বিজয়ী হওয়ার সুযোগ থাকায় রিটার্নিং কর্মকর্তা সেদিন এ আসনের ফল ঘোষণা স্থগিত করেন।
রির্টানিং কর্মকর্তা হায়াত উদ দৌলা খান বলেন, বুধবারের পুনঃভোট সুষ্ঠু করতে সব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
একজন অতিরিক্ত ডিআইজির নেতৃত্বে পাঁচ শতাধিক পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি ও র্যা ব মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া ১২জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে রয়েছেন।
এর আগে ৩০ ডিসেম্বর দেশের বিভিন্ন স্থানে কেন্দ্র দখলের চেষ্টা আর সংঘাতে ১৩ জেলায় কমপক্ষে ১৭ জন নিহত হন।
এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর) আসনে ভোটকেন্দ্রে গুলিতে এক কিশোরের মৃত্যু হয়।
প্রতীক বরাদ্দের পর এক প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় গাইবান্ধা-৩ আসনের ভোট আগেই স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। পুনঃতফসিলে ওই আসনে ২৭ জানুয়ারি ভোটগ্রহণ করা হবে।