ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ মহানগরীতে ভোটার উপস্থিতি ৫০ শতাংশের মত হবে বলে ধারনা ইসি সচিব হেলালুদ্দিনের।
ঢাকা দক্ষিণ সিটির নবগঠিত কাউন্সিলর নির্বাচনে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানান যুগ্মসচিব- আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা রকিব উদ্দিন।
ঢাকা উত্তরের মেয়র পদে উপনির্বাচন এবং দক্ষিণ ও উত্তরের ৩৬টি ওয়ার্ডের সাধারণ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা হয়।
বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে ভোটগ্রহণ চলে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।
এরমধ্যে বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে আওয়ামী লীগের মেয়র আতিকুল ইসলাম এগিয়ে আছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির প্রার্থী শাফিন আহমেদ। মেয়র নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম থাকলেও ভোটারদের উৎসাহ ছিল কাউন্সিলর নির্বাচনে।
উত্তরে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টিসহ পাচঁ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এছাড়া, উত্তর সিটিতে যুক্ত হওয়া ১৮টি সাধারণ ওয়ার্ডে ১১৬ জন এবং সংরক্ষিত ছয়টি ওয়ার্ডে ৪৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। অন্যদিকে, দক্ষিণ সিটির ১৮টি সাধারণ ওয়ার্ডে ১২৫ জন ও সংরক্ষিত ৬টি ওয়ার্ডে ২৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে ভোটগ্রহণ। একইসঙ্গে নতুন যুক্ত হওয়া উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৮টি করে মোট ৩৬টি ওয়ার্ডের ভোটগ্রহণও হয়েছে শান্তিপূর্ণভাবে। তবে ভোটার উপস্থিতি ছিল একেবারেই কম। তবে ইসি সচিবের ধারনা, নির্বাচনে প্রায় ৫০ শতাংশের মত ভোট কাস্ট হতে পারে।
উত্তরার নওয়াব হাবিবুল্লাহ স্কুল অ্যান্ড কলেজ। বেলা ১২টার চিত্রে দেখা যায় ভোটারদের কোনো লাইন নাই। মাঝে মাঝে এক থেকে ২ আসছেন আর ভোট দেন। এ কেন্দ্রের বেশিরভাগ ভোট কক্ষেই অলস সময় কাটান সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার ও সহকারীরা।
একই চিত্র, উত্তরার আইইএস স্কুল অ্যান্ড কলেজের। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এখানেই ভোট দিয়েছেন। প্রথম দুই ঘণ্টায় প্রায় ৩ হাজার ভোটারের মধ্যে এখানে ভোট পড়ে মাত্র ১৫টি।
কমবেশি একই চিত্র উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রায় সব কেন্দ্রেই। ভোটকে কেন্দ্রে করে যে উৎসাহ উত্তেজনা থাকে তার কিছুই ছিল না এ উপনির্বাচনে। ভোটারের কোনো লাইন না থাকায় মাঝে মাঝে দু একজন যারা আসছেন, কোনো ধরনের ঝুক্কি ঝামেলা ছাড়াই নির্বিঘ্নে স্বল্প সময়ে ভোট দিতে পেরেছেন তারা।
ভোটার কম হওয়ার পেছনে, বৃষ্টি এবং বৈরি আবহাওয়াকে দায়ী করা হলেও, যে সব কেন্দ্রে কাউন্সিলর প্রার্থী আছে, সেখানে বৈরি আবহাওয়া বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। ভোট কেন্দ্রের আশপাশে লোকজনের জটলা, এবং ভোট প্রদানের হারও সেখানে তুলনামূলক বেশি।
ভোট শেষ হওয়ার পর বিকেলে নির্বাচন কমিশন সচিব জানান, ভোটার উপস্থিতি যতই কম হোক, দিন শেষে ৫০ শতাংশের মত ভোট কাস্ট হতে পারে।
ভোটার উপস্থিতি কম, তবে সার্বিকভাবে ভোট কেন্দ্রের ভিতরে এবং বাইরের পরিবেশ ছিল সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে যুক্ত হওয়া নতুন ১৮টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ভোটগ্রহণ বৃষ্টির কারণে সকালে ভোটারদের উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভীড় বাড়তে থাকে। নির্বাচনের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভোটারসহ কাউন্সিলর প্রার্থীরা।
রাজধানীর মান্ডা এলাকার ৭১ ও ৭২ নম্বর ওয়ার্ডে মোট ভোট কেন্দ্র ১২টি। সবকটি কেন্দ্রেই উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিয়েছেন বলে জানান ভোটাররা।
এবার দক্ষিণ সিটির অংশ হয়েছে নাসিরাবাদ-ত্রিমোহনী-দাশেরকান্দি এলাকা। সিটি করপোরেশনের অংশ হওয়ায় ভোট দিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন ভোটাররা।
নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন কাউন্সিলর প্রার্থীরাও।
ভোটগ্রহণের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ ভোটারদের উপস্থিতি সন্তোষজনক ছিল বলে জানান প্রিজাইডিং অফিসার।
আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম ভোটের পরিবেশে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বিজয়ী হলে ঢাকাকে সুন্দর করে সাজাবেন বলেও জানান আতিকুল ইসলাম। অন্যদিকে কিছু কিছু কেন্দ্রে ভোটের অনিয়ম দেখেছেন বলে দাবি করেছেন জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী শাফিন আহমেদ। এই সরকারের অধীনে আগের নির্বাচগুলোর অনিয়মের কারণেই ভোটার উপস্থিতি কম বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন-সংশয় থেকেই ভোটাররা ভোট থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।
এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন উপনির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ার পেছনে নির্বাচন কমিশনের কোনো দায় নেই, এই দায় রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীদের বলে মনে করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা।
সকালে রাজধানীর উত্তরায় আইইএস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিয়ে সিইসি এ কথা বলেন তিনি।
তবে দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ নির্বাচন অসম্পূর্ণ এবং অংশগ্রহণমূলক নয় বলে মন্তব্য করেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার।
সিটি নির্বাচনের ভোটের সকালে রাজধানীর উত্তরায় আইইএস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে নিজের ভোট দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা। বেলা ১১টার দিকে তিনি যখন ভোট দিতে আসেন তখনও প্রায় ফাঁকা ছিল এ ভোট কেন্দ্র। ভোট কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের কোন দায় নেই বলে দাবি করেন তিনি। এর জন্য দায়ী করেন রাজনৈতিক দল এবং নির্বাচনে প্রার্থীদের।
এক বছরের জন্য মেয়র নির্বাচন হওয়ায় এতে ভোটাররদের আগ্রহ কম হতে পারে বলেও মনে করেন সিইসি।
ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ার বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। বিএনপি অংশ না নেয়ায় সিটি নির্বাচনটি অংশগ্রহণমূলক হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। উপজেলা নির্বাচন জৌলুস হারাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।