বাংলাদেশে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন- বিজিএমইয়ের নেতৃত্ব নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিজিএমইয়ে কার্যালয়ের নুরুল কাদের মিলনায়তনে শনিবার সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়।
রাজধানীর পাশাপাশি চট্টগ্রামেও ভোট চলছে, ৪টা পর্যন্ত একটানা চলে।
নির্বাচন কমিশনার নিহাদ কবির সাংবাদিকদের বলেন, অত্যন্ত সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশে ভোটগ্রহণ হচ্ছে, বিকালে ভোটগ্রহণ শেষে দুই কেন্দ্রে গণনার পর ফলাফল ঘোষণা হবে।
বিজিএমইএর নির্বাচনকেন্দ্রিক বড় দুই জোট সম্মিলিত পরিষদ ও ফোরাম সমঝোতার মাধ্যমে একটি প্যানেল দিয়েছে। এর বিপরীতে নতুন জোট স্বাধীনতা পরিষদ খণ্ডিত প্যানেল দেয়ায় সংগঠনটির নেতৃত্ব নির্বাচনে ৪বছর পর ভোট হচ্ছে।
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেল স্বাধীনতা পরিষদের নেতা জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করেন, ভয়ভীতি দেখানোয় তার দুই এজেন্ট আসেননি। প্রার্থীদের মধ্য থেকে দুজনকে এজেন্ট দেয়া কথা বলার পর কমিশন তা অনুমতি দেয়নি।
সম্মিলিত পরিষদ ও ফোরামের বাইরে এবার স্বাধীনতা পরিষদ ভোটের লড়াইয়ে নামলেও প্রতিটি পদে প্রার্থী দিতে পারেনি তারা।
বিজিএমইএ ভবনের নিচ তলায় সম্মিলিত-ফোরাম প্যানেলের নির্বাচনী বুথ, ব্যানার শোভা পেলেও স্বাধীনতা পরিষদের কোনো প্রতিনিধিকে দেখা যায়নি।
এ নির্বাচনে সম্মিলিত পরিষদ ও ফোরাম ঐক্যবদ্ধ হয়ে সম্মিলিত-ফোরাম নামে পূর্ণ প্যানেল দিয়েছে। এই প্যানেলের মূল নেতা হিসেবে রয়েছেন মোহাম্মদী গ্রুপের এমডি রুবানা হক— তিনি বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হকের স্ত্রী।
তবে স্বাধীনতা পরিষদ চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রার্থী না দেয়ায় সেখানে সম্মিলিত ফোরামের ৯ প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন।
বিজিএমইএর পরিচালক পদের সংখ্যা ৩৫। তবে চট্টগ্রাম অঞ্চলে ৯ প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক নির্বাচিত হওয়ায় কেবল ঢাকা অঞ্চলের ২৬ পরিচালক পদের জন্য ভোট গ্রহণ হচ্ছে।
বিজিএমইএর ঢাকা অঞ্চলের ২৬ পরিচালক পদের বিপরীতে লড়ছেন দুই প্যানেলের ৪৪ জন প্রার্থী। এবার ভোটার ১ হাজার ৯৫৬ জন। তার মধ্যে ঢাকার ১ হাজার ৫৯৭ এবং ৩৫৯ জন চট্টগ্রামে।
সম্মিলিত ফোরামের প্যানেল লিডার রুবানা হক ভোট দিয়েছেন।
বিজিএমইএর সহসভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, সকাল থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ১৫০ থেকে ২০০ ভোটার ভোট দিয়েছেন।
২০১৫ সালে বিজিএমইএর নেতৃত্ব নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়ার পর প্রতিদ্বন্দ্বী দুটি প্যানেল সম্মিলিত পরিষদ ও ফোরাম সমঝোতার মাধ্যমে বর্তমান সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানকে সভাপতি করে একটি পরিচালনা পর্ষদ ঠিক করে। এরপর থেকে আর নির্বাচন না হয়ে তিন ধাপে এই পরিচালনা পর্ষদের মেয়াদ বাড়ানো হয়।
এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে গড়ে ওঠে ‘স্বাধীনতা পরিষদ’ তারা সমঝোতার মাধ্যমে না করে নির্বাচনের মাধ্যমে নেতৃত্ব ঠিক করার দাবি তোলে।