নির্বাচন কমিশন গঠনের ব্যাপারে আজ সোমবার রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপ শুরু করছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। প্রথম দিন সংলাপে যাবে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি।
নির্বাচন কমিশন গঠনে এখনও আইন প্রণয়ন না হওয়ায় এবারও নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে রাষ্ট্রপতিকে সার্চ কমিটির পথে যেতে হচ্ছে। তারই অংশ হিসাবে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সোমবার থেকে নির্বাচন কমিশনে তালিকাভুক্ত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করছেন।
সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিকদের অনেকেই এবার নির্বাচন কমিশন গঠনে নতুন আইনের কথা বলছেন। ইসি গঠনে প্রতি পাঁচ বছর পরপর রাজনৈতিক বিরোধ এড়াতে সংবিধানের নির্দেশনা মেনে আইন প্রণয়নের পক্ষে তারা।
অন্যদিকে, আগের দুই সংলাপে অংশ নিলেও এবার রাষ্ট্রপতির ডাকে অংশ নেওয়ার বিষয়ে নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করছে বিএনপি। নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও এই বিরোধের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে নতুন আইন প্রণয়নের পক্ষে মত দিয়েছেন।
এদিকে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি শেষ হচ্ছে কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ। ফলে এর আগেই রাষ্ট্রপতি নতুন কমিশন নিয়োগ দেবেন। এ কমিশনের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
এ লক্ষ্যে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে নিবন্ধিত দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।
প্রথম দিনের আলোচায় অংশ নিতে ইতোমধ্যে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সৃষ্ট রাজনৈতিক দল জাতীয় পার্টিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। জাপার বর্তমান চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের নেতৃত্বে ৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আজকের সংলাপে অংশ নিচ্ছেন বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।
সংলাপে দ্বিতীয় দল হিসাবে যাচ্ছে সরকারের জোটের অন্যতম শরিক দল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)। জাতীয় পার্টির সঙ্গে আলোচনার একদিন পর জাসদের সঙ্গে সংলাপ হবে। অর্থাৎ ২২ ডিসেম্বর বিকেলে রাষ্ট্রপতি জাসদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন নিয়ে। এর পরে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী ও মহাজোটের শরীক দল ওয়াকার্স পার্টির, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সিপিবি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ, বিপ্লবী ওয়াকার্স পার্টি, সাম্যবাদী দলসহ বেশ কয়েকটি দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে বঙ্গভবন সূত্র নিশ্চিত করেছে।