নতুন দায়িত্ব নেওয়া নির্বাচন কমিশন আজ (২২ ফেব্রুয়ারি) সংলাপে ডাকেন দেশের ৩৯ জন বিশিষ্ট নাগরিককে। তবে তাতে সাড়া দিয়ে বৈঠকে অংশ নেন মাত্র ১৯ জন।
মঙ্গলবার সকালে ঢাকায় নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
সংলাপে বিশিষ্টজনরা জাতীয় নির্বাচনে সবার ঐকমত্য ছাড়া ইভিএম ব্যবহার না করা, ভোটারদের বাধাহীনভাবে ভোটদানের অধিকার নিশ্চিত করা, ভোটের আগে-পরে ভোটারদের বিশেষ করে নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নির্বাচনকালীন প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে আনার পরামর্শ দিয়েছেন।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘নির্বাচনকালীন সরকার নির্বাচনের ফলাফলের ব্যাপারে নিস্পৃহ থাকবে। সে নির্বাচনের ফলাফলকে নিজের পক্ষে নেয়ার ক্ষেত্রে কোন ধরনের প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করবে না অথবা কোন ধরনের উৎসাহও যোগাবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘এমন সরকার যদি না থাকে, তাহলে নির্বাচন কমিশনের সংবিধান এবং আইনে প্রদত্ত অধিকার কার্যকর করার কোন সুযোগ নাই।’
সৎ ও যোগ্য প্রার্থীরাই যেন নির্বাচনে মনোনীত হন, তার জন্য দেশে যেসব আইন আছে তার প্রয়োগ ঘটাতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ইভিএমের ব্যাপারে পরিষ্কারভাবে জাতীয় ঐক্যমতের প্রয়োজন আছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। নির্বাচনে দেশি এবং বিদেশি পর্যবেক্ষকেরা নির্ভয়ে কাজ করতে পারবেন, তেমন পরিবেশ থাকার ওপর জোর দিয়েছেন দেবপ্রিয়।
সংলাপে উপস্থিতদের মধ্যে ছিলেন- ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, মোস্তাফিজুর রহমান, জাফরুল্লাহ চৌধুরী, খুশি কবির, সঞ্জীব দ্রং, রোবায়েত ফেরদৌস, আলী ইমাম মজুমদার, আবদুল লতিফ মণ্ডল, মহিউদ্দিন আহমেদ, সিনহা এম এ সাঈদ, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, ফরাস উদ্দিন, আবু আলম শহীদ খান, ইফতেখারুজ্জামান ও শাহীন আনাম।
সংলাপ শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, তারা বিশিষ্টজনদের প্রস্তাব ও পরামর্শ শুনেছেন। এসব পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
২৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেয় বর্তমান ইসি কমিটি। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ১৫ দিনের মাথায় ১৩ মার্চ শিক্ষাবিদদের সঙ্গে প্রথম সংলাপ করে। সেদিন ৩০ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও সংলাপে এসেছিলেন মাত্র ১৩ জন। শিক্ষাবিদদের পর আজ বিশিষ্টজনদের সঙ্গে সংলাপ করল ইসি।