রচন্ড দাবদাহের পর শুক্রবার দেশের কোথাও কোথাও বৃষ্টি দেখা মেলে। বিকাল থেকেই রাজধানীর আকাশে দেখা যায় মেঘের ঘনঘটা। সেইসঙ্গে প্রবল বাতাস। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দুই একদিনের মধ্যেই তাপমাত্রা কমে কিছুটা স্বস্তি আসবে জনজীবনে।
দুঃসহ গরমে সারাদেশের জনজীবন বিপর্যস্ত। গত কয়েকদিনে তাপমাত্রা বাড়তে বাড়তে বৃহস্পতিবার ছাড়িয়ে গেছে রাজধানীর ৫৪ বছরের রেকর্ড। পরিবেশ ও জলবায়ু বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ুর স্বাভাবিক পরিবর্তনের সঙ্গে মানবসৃষ্ট কারণও এর জন্য দায়ী।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আগামী কয়েকদিনে তাপমাত্রা আরো বাড়ার আভাস পাওয়া গেছে তবে আগামী রোববার পর্যন্ত রাজধানীর তাপমাত্রা বেড়ে ৪২ থেকে ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হতে পারে।
১৯৪১ সাল থেকে পূর্ব বাংলায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা শুরু হয়। এরপর ১৯৬০ সালের ৩০ এপ্রিল ঢাকার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪২.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দীর্ঘ ৫৪ বছর পর গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ১৯৬০ সালের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
তবে বৃহস্পতিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল যশোরে ৪২.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ১৯৭২ সালের ১৮ মে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রাজশাহীতে ৪৫.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অসহনীয় গরমে প্রাণ ওষ্ঠাগত। তীব্র তাপদাহে রাত কাটে, নির্ঘুম দিনেও ঘর থেকে বের হওয়া দায়।
তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার এ সঙ্কেত কি বিশ্ব-উষ্ণায়নের ফল? নাকি আর কিছু? গত দুই সপ্তাহ টানা ঝড়-বৃষ্টি না হলেও ২৭ এপ্রিলের পর তাপমাত্রা কমতে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
পরিবেশ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, তাপমাত্রার ক্রমবর্ধমান এ বাস্তবতায় খাপ খাইয়ে নেয়া ছাড়া বিকল্প উপায় নেই। তবে চাতকের মতো বৃষ্টির জন্য অপেক্ষার প্রহর যেন শিগগিরই শেষ হয় এটাই সবার কামনা।