সম্প্রতি নেপালে ভয়াবহ ভূমিকম্প এবং এ অঞ্চলে গত কয়েক বছরে খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে বারবার ভূমিকম্প জনমনে আতংক ছড়িয়ে দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থান এবং ভূমিকম্পের অতীত রেকর্ড থেকে ধারণা করা যায়, যে কোন সময় এ অঞ্চলে আঘাত হানতে পারে ৮ মাত্রার চেয়েও বেশি শক্তিশালী ভূমিকম্প। আর এতে ব্যাপক প্রাণকানি ও ধ্বংসযজ্ঞ হতে পারে ঢাকাসহ দেশের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে। নগরীর সেবা খাতের অব্যবস্থাপনা আর অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং পূর্বপ্রস্তুতি না থাকার কারণে ভূমিকম্প পরবর্তী অবস্থা আরো জটিল আকার ধারণ করতে পারে, এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
দেশের যেসব অঞ্চল ভূমিকম্পের বড়ো ও মাঝারি ধরনের ঝুঁকির মুখে রয়েছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য: বৃহত্তর ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট, টাঙ্গাইল, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম। তবে সবেচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রাজধানী ঢাকা।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ৭ থেকে ৮ মাত্রার একটি ভূমিকম্পই রাজধানীতে মহাবিপর্যয় ঘটাতে পারে। ভূকাঠামোর চূত্যি বা ফল্টই একমাত্র কারণ নয়, অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া, মাটির স্তরে ফাটল ও আলোড়ন রাজধানীর ঝুঁকির মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুন।
ভূতাত্ত্বিকভাবেই বাংলাদেশ ভূমিকম্প ঝুঁকিতে রয়েছে। এ অঞ্চলের দেশগুলোর ভূকাঠামোতে অন্তত ৪টি বড়ো ধরনের ফল্ট বা চূত্যির কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। এসব চূত্যিতে বড়ো ধরনের নাড়াচাড়া ওলটপালট করে দিতে পারে দেশের বহু এলাকা।
আলোচিত এসব ফল্ট হচ্ছে: ময়মনসিংহ- সিলেট মেঘালয় সীমান্তে ডাউকি ফল্ট, উত্তরে জামালপুর থেকে টাঙ্গাইল- মীর্জাপুর হয়ে ঢাকার দক্ষিণে কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত ১৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ মধুপুর ফল্ট, ভারতের আসাম থেকে ব্রাহ্মনবাড়িয়া পর্যন্ত আসাম-সিলেট ফল্ট এবং সীতাকুণ্ড থেকে কক্সবাজার উপকূল হয়ে মিয়ানমার উপকূল পর্যন্ত ৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ফল্ট।
বাংলাদেশ যে ভূমিকম্পের বড়ো ধরনের ঝুঁকিতে থাকা দেশ, তার প্রমাণ মেলে ইতিহাসের তথ্য উপাত্তেও। ১৭৬২ সালে সীতাকুণ্ডে, ১৮৮৫ সালে গাজীপুরে, ১৮৯৭-এ ভারতের আসামে, ১৯১৮-এ শ্রীমঙ্গলে, ১৯৩০-এ ভারতের ধুবড়ীতে, ১৯৩৪-এ বিহার ও নেপালে এবং ১৯৫০ সালে আসামে বড় ধরনের ভূমিকম্প হয়, যার প্রতিটির মাত্রা ছিল ৭ এর বেশি। এসব ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা।
তবে পূর্বপ্রস্তুতি ও সতর্কতাই ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে পারে বলে অভিমত বিশেষজ্ঞদের।