পৃথিবীপৃষ্ঠের বরফে আচ্ছাদিত দুই মহাসাগর আর্কটিক ও অ্যার্ন্টারটিকে বরফ গলছে।
বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির বর্তমান হার অব্যাহত থাকলে আগামী ২০৩০ সাল নাগাদ উত্তর মহাসাগর বা আর্কটিক বরফ শূন্য হয়ে পড়তে পারে। আর এর ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের ঊচ্চতা বেড়ে উপকূলীয় বহু এলাকা ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অতিমাত্রায় কয়লা ও গ্যাস পোড়ান ও বনাঞ্চল কমে যাওয়ায় কার্বন নিঃসরণ বেড়ে যাওয়াই পরিবেশের এ বিপর্যয়ের কারণ বলে মনে করছে বিজ্ঞানীরা।
পৃথিবীর উত্তর মেরুতে এক কোটি ৪০ লাখ বর্গকিলোমিটার আয়তন বিশিষ্ট আর্কটিক মহাসাগরের প্রায় পুরো এলাকা বরফে আচ্ছাদিত। এর উপকূলে রয়েছে ইউরোশিয়া অঞ্চল ও উত্তর আমেরিকাসহ অনেক দ্বীপ।
গবেষণায় দেখা গেছে আর্কটিক অঞ্চলের তাপমাত্রা বাড়ছে প্রায় দ্বিগুণ গতিতে এবং চলতি শতকের শেষ নাগাদ এ তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী ২০৩০ সাল নাগাদ বরফ শূন্য হয়ে পড়তে পারে উত্তর মহাসাগর বা আর্কটিক।
এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেড়ে চলেছে ওই অঞ্চলের বরফ গলার প্রবণতাও।
বিজ্ঞানীরা স্যাটেলাইট ও ড্রোনের মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ড অঞ্চলে পর্যবেক্ষণ চালায়। যাতে দেখা যায় সেখানকার হিমবাহগুলো যে হারে গলছে তাতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা আধা মিটার বেড়ে যেতে পারে।
একইসঙ্গে পৃথিবীপৃষ্ঠের দক্ষিণ মেরুতে অবস্থিত অ্যান্টার্কটিকের জমে থাকা বরফও গলছে। এর ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতাও ১৬০ ফুট বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গবেষণায় বিজ্ঞানিরা দেখেছেন, এ অঞ্চলে গত এক হাজার বছরে যে পরিমাণ বরফ গলেছে তার তুলনায় এখন অন্তত ১০গুণ বেশি গতিতে গলছে বরফ।
মূলত অতিমাত্রায় কার্বন নিঃসরণ, কয়লা, গ্যাস পোড়ানো, বনাঞ্চল কমে যাওয়ার কারণে বায়ুমণ্ডল ক্রমাগত উত্তপ্ত হচ্ছে। যার পরিণতিতেই জমে থাকা বরফ গলার গতি বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানান বিজ্ঞানীরা।