জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবুজ গাছপালা বেষ্টিত উপকূলীয় এলাকা ক্রমেই বিরাণভূমিতে পরিণত হচ্ছে। স্থলভাগে লোনা পানি ঢুকে পরায় ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও নদী ভাঙনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেড়ে যাওয়ায় মরছে গাছপালা কমছে আবাদি জমি।
এরফলে এসব অঞ্চলে মানুষের কর্মসংস্থানের সংকট সৃষ্টি হচ্ছে—বাড়ছে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সংখ্যা।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। এর প্রভাবে প্রতিনিয়তই জীবন-জীবিকা, অবকাঠামো ও সম্পদহানির সম্মুখীন হচ্ছে উপকূলবাসী।
দেশের দক্ষিণাঞ্চলে সমুদ্রের লোনা পানি ক্রমশই স্থলভাগে ঢুকে পড়ায় জমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি খাদ্য উৎপাদন কমছে। একইসঙ্গে বাড়ছে পানীয় জলের সংকট এবং খাদ্য ও পুষ্টির অভাব।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সুন্দরবন গবেষণা সেন্টারের পরিচালক ড. সরদার শফিকুল ইসলাম বলেন, ঝড় জলোচ্ছ্বাসের কারণে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে উপকূলবাসী। এ ধরনের দুর্যোগের ফলে কর্মসংস্থান হারিয়ে বেকার হয়ে পড়ছে মানুষ। বাড়ছে দারিদ্রতা। তাই জীবিকার সন্ধানে অনেকেই চলে যাচ্ছেন অন্যত্র।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে উপকূল এলাকায় সরকারি ও বেসরকারি প্রকল্প চালু রয়েছে—এ কথা জানিয়েছেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুস সামাদ।
এসব প্রকল্পের মাধ্যমে লবনাক্ত সহিষ্ণু ধান চাষাবাদের পাশাপাশি বনায়নের চেষ্টাও চলছে বলে জানান তিনি।
তবে উপকূলবাসীর জীবন-জীবিকার কথা বিবেচনায় এনে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথা বলছেন বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তারা।