জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে গত বিশ বছর ধরে সমুদ্রপৃষ্ঠের ঊচ্চতা বাড়ছে বছরে দশমিক এক তিন ইঞ্চি। সমুদ্রে পানি বৃদ্ধির এ হার অব্যাহত থাকলে চলতি শতকের শেষ নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের ঊচ্চতা আড়াই ফুট থেকে সাড়ে ছয় ফুট পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা।
আর এরফলে বাংলাদেশ, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মিসর ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উপকূল অঞ্চল ডুবে যেতে পারে বলেও মনে করছেন তারা। যার মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে মানুষ ও জীববৈচিত্রের ওপর।
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে বিশ্বের উষ্ণতা বৃদ্ধির বর্তমান হার যদি অব্যাহত থাকে, তবে চলতি শতকের শেষ নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা আড়াই থেকে সাড়ে ছয় ফুট পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। আর এর ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দশটি দেশ; যার প্রথমেই রয়েছে চীন। এরপরে রয়েছে ভিয়েতনাম, ভারত ও ইন্দোনেশিয়া। পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া এ তালিকায় রয়েছে জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, মিসর ও নেদারল্যান্ডস।
বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার অন্তত ১৬ শতাংশের ওপর এর প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা।
বিগত ১৯০০ শতকের আগে অন্তত দুই হাজার বছরে খুব সামান্যই পরিবর্তন এসেছে সমুদ্র পৃষ্ঠের ঊচ্চতায়। কিন্তু এটা রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পায় একবিংশ শতকের পর থেকে।
গবেষণায় দেখা গেছে, গত শতকে গ্লোবাল মিন সি লেভেল বেড়েছে ১০ থেকে ২০ সেন্টিমিটার বা ৪ থেকে ৮ ইঞ্চি। আর গত ২০ বছর ধরে বাড়ছে বছরে দশমিক এক তিন ইঞ্চি বা ৩ দশমিক ২ মিলিমিটার হারে।
আর বিজ্ঞানীদের মতে তিনটি কারণে সমৃদ্রপৃষ্ঠের ঊচ্চতা বাড়ছে। প্রথমত, গরম হয়ে যাওয়ার জন্য সাগর-মহাসাগরগুলোর পানি প্রতিনিয়ত আয়তন বাড়চ্ছে।
দ্বিতীয়ত, দুই মেরু অঞ্চলে জমে থাকা বরফ গলছে এবং তৃতীয়ত গ্রিনল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানের হিমবাহগুলো প্রতিনিয়ত গলছে।
মূলত গ্যাস, জীবাষ্ম জ্বালানি পোড়ানো, প্রাকৃতিক দাবানালসহ বিভিন্ন কারণে পৃথিবীব্যাপী যে তাপ উৎপন্ন হচ্ছে তার অন্তত ৮০ শতাংশই শুষে সমুদ্রের পানি। যার ফলে বাড়ছে তার তাপমাত্রা। পাশাপাশি গলছে বরফও।