বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম একটি কারণ বনভূমি সংকুচিত হয়ে আসা। নির্বিচারে বৃক্ষ নিধনের পরিণামে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে বিশ্ব। প্রতিবছর পৃথিবী থেকে ৬ দশমিক ৪ মিলিয়ন হেক্টর বনভূমি হারিয়ে যাচ্ছে।
জাতিসংঘের হিসাবে, প্রতি মিনিটে ধ্বংস হচ্ছে প্রায় ১০ হেক্টর বনভূমি। সবুজ বৃক্ষ ও বনভূমি কমে যাওয়ায় বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণও বাড়ছে দিন দিন।
গবেষকরা বলছেন, ১০০ বছরে বায়ুমণ্ডলের তাপামাত্রা দশমিক ৩ ডিগ্রি থেকে দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়ার বেড়েছে। এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে এই শতক শেষে পৃথিবীর তাপমাত্রা গড়ে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি বেড়ে যেতে পারে।
ইউরোপ, আমেরিকা, আফ্রিকা, এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের প্রায় ৩০ শতাংশ এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে আছে বনভূমি। প্রায় ১১ হাজার বছর আগে পৃথিবীতে কৃষি উদ্ভবের পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৪০ ভাগ বনভূমি ধ্বংস হয়েছে। এর মধ্যে দু্ই তৃতীয়াংশ বন উজাড় হয়েছে গত দুই দশকে। মানুষের আবাসস্থল, চাষের জন্য জমি, মিল-কলকারখানা স্থাপন, বনদস্যুদের দৌরাত্ম্য, কাঠের ব্যবহারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় নানা কারণে নিধন হচ্ছে গাছপালা।
এর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক কার্বন চক্রে। বন উজাড় হওয়ার কারণে গাছ থেকে অক্সিজেন সরবরাহ কমছে, কমছে কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণও, উত্তপ্ত হচ্ছে বায়ুমণ্ডল। এটি মানবসৃষ্ট দ্বিতীয় বৃহত্তম কারণ, যার ফলে বায়ুমণ্ডলে ৬ থেকে ১৭ শতাংশ কার্বন ডাই আক্সাইড নিঃসরণ হচ্ছে।
নির্বাচারে গাছপালা কেটে ফেলায় প্রতিবেশের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বনে বাস করা পৃথিবীর ৭০ শতাংশ প্রাণীর মধ্যে অনেক প্রজাতিই তাদের আবাস হারিয়ে প্রায় বিলুপ্তির পথে। মারাত্মক প্রভাব পড়ছে পানি চক্র, ভূমি ও মানুষের জীবন মানের ওপর।
পরিবেশ গবেষকরা বলছেন, ১০০ বছরে বায়ুমণ্ডলের তাপামাত্রা দশমিক ৩ ডিগ্রি থেকে দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়ার বেড়েছে। এ ধারাবাহিকতায় ২১০০ সালের মধ্যে পৃথিবীর তাপমাত্রা গড়ে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।