গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণই বৈশ্বিক উষ্ণায়নের মূল কারণ। গ্রিন হাউস গ্যাসের ৭২% কার্বন ডাই অক্সাইড, যা উষ্ণায়নের জন্য বিশেষভাবে দায়ী। কল-কারখানা, যানবাহনে তেল, কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস, পেট্রোল, ডিজেল ও ইথানল পুড়ানোর কারণে বায়ুমণ্ডলে এ গ্যাসের পরিমাণ বাড়াছে।
পাশাপাশি জলীয় বাষ্প, মিথেন ও সিএফসি গ্যাসও প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রকৃতিতে দূষণ ঘটাচ্ছে বলেও মনে করেন বিজ্ঞানিরা।
গ্রিন হাউজ গ্যাসকের মূল কাজই হচ্ছে পৃথিবীর জলবায়ুকে জীবন উপযোগী তাপমাত্রার মধ্যে রাখা। তবে দিন দিন এ গ্যাসের পরিমাণ বেড়ে সূর্যে তাপ বিকিরণ বাধা পাচ্ছে বলে মনে বিজ্ঞানীরা। তাদের মতে এ কারণে বাড়ছে প্রথিবীর উষ্ণতা; ঘটছে জলবায়ুর বিপর্যয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রিন হাউজ গ্যাসের ৭২% কার্বন ডাই অক্সাইড। শিল্পকারখানা, যানবাহন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে জীবাশ্ম জ্বালানি অর্থাৎ, তেল, কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস, পেট্রোল পুড়িয়ে বায়ুমণ্ডলে প্রচুর পরিমাণ কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ হচ্ছে।
এর জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী চীন, দূষণকারী আমেরিকা, ইউরোপীয় ইউনিয়নও।
এছাড়াও ১৮% দূষণ ঘটাচ্ছে মিথেন, যা রান্না কিংবা সিএনজ হিসেবে যানবাহনে ব্যবহার এবং গরুর গোবর থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদন করেও প্রতিবছর বিপুল পরিমাণে এ গ্যাস বায়ুমণ্ডলে নিঃসৃত হচ্ছে।
এরোসল ও রেফিজারেটরের শীতলকারক হিসেবে এতোদিন ওজোনস্তর ধ্বংসকারী সিএফসির ব্যবহার গ্রিনহাউজ ইফেক্টের কারণ।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, আরেক শক্তিশালী গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরিত হয় কৃষিকাজ থেকে। কৃষিতে নাইট্রোজেন সার যেমন ইউরিয়া ব্যবহারের ফলে বাড়ছে নাইট্রোজেন গ্যাসের পরিমাণ।
অর্থাৎ এ গ্রিন হাউজ ইফেক্টের ৯০% মানবসৃষ্ট কারণে ঘটছে বলে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত আন্তঃসরকার পরিষদ-আইপিসিসি'র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
বৈশ্বিক তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখা এবং উল্লেখযোগ্য হারে কার্বন নিঃসরণ কমাতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে প্যারিসে চলছে বিশ্বনেতাদের জলবায়ু সম্মেলন।