জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে মানুষের স্বাস্থ্যগত ক্ষেত্রে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) এক প্রতিবেদনে বলেছে, কেবল জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অপুষ্টি, ম্যালেরিয়া, ডায়রিয়া এবং তাপ জনিত কারণে ২০৩০ থেকে ২০৫০ সালের মধ্যে অতিরিক্ত আড়াই লাখ মানুষের মৃত্যু হতে পারে।
এছাড়া নিরাপদ পানীয় জল এবং আশ্রয়ের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে আর এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হবে দুর্বল অবকাঠামো এবং অর্থনীতির দেশগুলো।
চলতি বছরের মে মাসে প্রচণ্ড দাবদাহে ভারতে প্রাণহানি ঘটেছে আড়াই হাজার মানুষের। দক্ষিণ ভারতের অন্ধ্র, তেলেঙ্গানাসহ আশপাশের প্রদেশগুলোর গড় তাপমাত্রা ছিল এসময় চল্লিশ ডিগ্রির ওপরে।
পাশাপাশি জুনমাসে দাবদাহ শুরু হয় পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে। করাচিতে টানা কয়েকদিনের তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। প্রচন্ড দাবদাহের কারণে পাকিস্তানে মারা যায় দুই হাজারের বেশি মানুষ। অসুস্থ হয় আরো অনেকে।
গবেষণা বলছে, গত ১৩০ বছরে বৈশ্বিক তাপ বেড়েছে দশমিক আট পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর গত তিন দশকে বৈশ্বিক তাপ বৃদ্ধির হার রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। মূলত তাপবৃদ্ধির কারণেই বিশ্ব জলবায়ুতে বহুমুখী পরিবর্তন আসছে। আর মানুষের স্বাস্থ্যের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক প্রতিবেদনে আশঙ্কা করা হচ্ছে, কেবল জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অপুষ্টি, ম্যালেরিয়া, ডায়রিয়া এবং তাপ জনিত কারণে ২০৩০ থেকে ২০৫০ সালের মধ্যে অতিরিক্ত আড়াই লাখ মানুষের মৃত্যু হতে পারে।
এদের মধ্যে শিশু এবং বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। একই কারণে ২০৩০ সাল পর্যন্ত বছরে আর্থিক ক্ষতি হতে পারে দুইশো থেকে চারশো কোটি মার্কিন ডলার।
বলা হচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নির্মল বাতাস, নিরাপদ পানীয় জল প্রাপ্তিতে ছেদ পড়বে। এছাড়া, খাবারের পর্যাপ্ততা এবং নিশ্চিত আশ্রয় পাওয়ার ক্ষেত্রও সংকুচিত হয়ে আসবে।
এর ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাংলাদেশসহ দুর্বল অবকাঠামো ও অর্থনীতির উন্নয়নশীল দেশগুলো।