জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে বন্যার ঝুঁকি।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ডব্লিউ.আর.আই.ও নেদারল্যান্ডসের বিশেষজ্ঞদের গবেষণা জানিয়েছেন, বর্তমানে বছরে বিশ্বের প্রায় দুই কোটি মানুষ বন্যা কবলিত হচ্ছে। তবে জলবায়ু পিরবর্তনের কারণে ২০৩০ সাল নাগাদ এ সংখ্যা বেড়ে সাড়ে ৫ কোটিতে গিয়ে দাঁড়াবে। আর আর্থিকভাবে যার পরিমাণ ৫২১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়াবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তাদের মতে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ৮০ শতাংশই বাংলাদেশ, ভারত, চীন, ভিয়েতনাম ও পাকিস্তানের মানুষ।
পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবী এমন এক মহাবিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে যেখানে মৌসুমে কখনো বৃষ্টি নেই, আবার কখনো হচ্ছে অতিবৃষ্টি। শুষ্ক মৌসুমে খরা, আবার কখনো প্রলঙ্করী বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও ঝড়বৃষ্টির পৌণপুণিকতা। এসবের অন্যতম কারণ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনকেই দেখছেন তারা।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সম্প্রতি গত ১০০ বছরের মধ্যে নজিরবিহীন বন্যায় নাকাল হয়েছে ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের চেন্নাই। কয়েক দিনের টানা বর্ষণে সৃষ্ট বন্যায় প্রাণ হারিয়েছেন ৫০০ও বেশি মানুষ। ওষুধ, খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবের পাশাপাশি পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাবে আরো ভয়াবহ হয়ে উঠেছে বন্যার পরবর্তী অবস্থা।
গবেষকরা বলছেন, এখন বছরে বিশ্বের প্রায় দুই কোটি মানুষ বন্যা কবলিত হচ্ছেন। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ২০৩০ সাল নাগাদ এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে সাড়ে ৫ কোটিতে যার ৮০% বাংলাদেশ, ভারত, চীন, ভিয়েতনাম ও পাকিস্তানের মানুষ।
বিশ্বের প্রতিবছর বন্যার কারণে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৯৬ বিলিয়ন ডলার। ২০৩০ নাগাদ বৈশ্বিক এই ক্ষতি ৫২১ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে দাঁড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে বলে গবেষণায় বলা হয়।
বিজ্ঞানীরা জানান, গত ১৩০ বছরে বৈশ্বিক তাপ বেড়েছে দশমিক আট পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপবৃদ্ধি ও সেইসঙ্গে মানবসৃষ্ট নানা কারণ, যেমন নির্বাচারে বন নিধন ও পরিকল্পিত নিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাবে বিশ্বজুড়ে বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে।