ভূমিকম্পের সময় জীবনের ঝুঁকি কমাতে কী করতে হবে এবং কী করা যাবে না এ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণাটুকুও নেই বেশিরভাগ মানুষের। সেইসঙ্গে একটি নতুন ভবনকে কিভাবে ভূমিকম্প সহনীয় করে বানাতে হবে, পুরোনো ভবনকেই বা কিভাবে ভূমিকম্প সহনীয় করা যায়- সে বিষয়েও সাধারণ মানুষ কিছুই জানেন না।
এ ক্ষেত্রে সচেতনতা বাড়াতে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর কোনো উদ্যোগ এখনো চোখে পড়েনি।
তবে ভূমিকম্প সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে সরকার বেশ কিছু পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বলে জানালেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।
সম্প্রতি সংঘটিত ভূমিকম্পগুলোতে দেশের যে কজনই হতাহত হয়েছেন, কোন ভবন ধ্বসের কারণে তা ঘটেনি। ভূমিকম্প শুরু হলে আতঙ্কে ছুটোছুটি করতেই এসব হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ভূমিকম্পের সময় কি করতে হবে সে বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান তো দূরে থাক প্রাথমিক ধারনাটুকুও নেই বেশিরভাগ নগরবাসীর।
ভূমিকম্পে প্রাণের ঝুঁকি কমাতে প্রথম যে বিষয়টি সামনে আসে, তা হলো ভবনকে ভূমিকম্প সহনীয় করে তৈরি করা অথবা পুরোনো ভবনকে ভূমিকম্প সহনীয় করা। তবে এসব কিভাবে করতে হয় সে বিষয়েও বেশিরভাগ বাড়ি মালিক কিছু জানেন না। লোকজনকে সচেতন করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোরও কোন পদক্ষেপ এখন পর্যন্ত লক্ষ্য করা যায়নি।
এসব প্রেক্ষাপট বিবেচনায় জনগণকে সচেতন করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানালেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ।
যেহেতু ভূমিকম্পের কোন আগাম সতর্কবার্তা নেই তাই ভূমিকম্পের সময় জীবনের ঝুঁকি কমাতে বেশ কিছু নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কে ছুটোছুটি করা যাবেনা। বাড়িতে থাকলে মাথার ওপরে বালিশ রেখে আর অফিসে থাকলে মাথায় হাত দিয়ে পিলার বা কলামের পাশে কিংবা শক্ত কিছুর নীচে আশ্রয় নিতে হবে।
ভূমিকম্প থামলে ভবন ত্যাগ করে ফাঁকা কোনো স্থানে আশ্রয় নিতে হবে। আর লিফট ব্যবহার না করে নামতে হবে সিঁড়ি দিয়ে।
ভূমিকম্প সহনীয় ভবন তৈরি করার ক্ষেত্রেও বিশেষজ্ঞদের কিছু পরামর্শ রয়েছে। বীমের জয়েন্টগুলোতে তুলনামূলক ঘন করে রডের বেড়ী দিতে হবে। সেইসঙ্গে প্রত্যেকটি রডের বেড়ী ভেতরের দিকে কিছুটা বাঁকিয়ে দিতে হবে।
এছাড়া বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে পুরোনো ভবনও রেক্টোফিটিং পদ্ধতিতে ভূমিকম্প সহনীয় করা যায়।