টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার নদনদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এসব জায়গার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় নতুন করে তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকা।
পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন কয়েক লাখ মানুষ। বিশুদ্ধ খাবার পানি ও খাদ্যের অভাবে বানভাসী মানুষকে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ সাহায্য দেয়া হলেও চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল বলে বন্যার্তদের অভিযোগ।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ধরলা পানি সেতু পয়েন্টে ৫ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ১০০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে বেড়ে গিয়ে বিপদসীমার ৭৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বৃদ্ধি পেয়েছে তিস্তা ও দুধকুমারের পানিও। এতে করে কুড়িগ্রাম জেলার বেশ কিছু এলাকা নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন প্রায় চার লাখ মানুষ। কুড়িগ্রাম-ভুরুঙ্গামারী মহাসড়কে পানি উঠে পড়ায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।
এদিকে, গাইবান্ধার ফুলছড়ি পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
তবে, বিপদসীমার নীচ দিয়ে বইছে ঘাঘট, তিস্তা ও করতোয়ার পানি। পানিবন্দী হয়ে রয়েছেন ২৭টি ইউনিয়নের ২৩ হাজারেরও বেশি পরিবার।
অপরিবর্তিত রয়েছে সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতিও। সুরমার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানিবন্দী হয়ে রয়েছেন দুই লাখেরও বেশি মানুষ। ডুবে গেছে এক হাজার ৫৪১ হেক্টর জমির ফসলী জমি।
এদিকে, পদ্মার পানি বেড়ে বিপদসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় কাওড়াকান্দি -শিমুলিয়া নৌরুটে নৌযান ও ফেরি পারাপার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।