টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, লালমনিরহাট ও নীলফামারীতে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ৭ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ৯৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে, ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে সামান্য কমে বিপদসীমার ১০০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। বেড়েছে তিস্তা, দুধকুমারসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানিও।
এসব জায়গার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় নতুন করে তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকা। পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন কয়েক লাখ মানুষ।
বানভাসী অনেকেই অপেক্ষাকৃত উঁচু বাঁধ, সড়ক ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছেন। সরকারি ত্রাণ বিরতণ করা হলেও, প্রয়োজনের তুলনায় তা অপ্রতুল বলে অভিযোগ দুর্গতদের।
গাইবান্ধায় ঘাঘট নদীর পানি বেড়ে ৮৬ সেন্টিমিটার ও বালাসি পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ৮০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গাইবান্ধা-সাঘাটা-ফুলছড়ি সড়কের ভরতখালী ও উল্লাবাজার এলাকার ১০টি পয়েন্ট দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক সামছুল আজম বলেন, এসব এলাকায় ৫০ মেট্রিকটন চাল ও শুকনা খাবার বিতরণ করেছে।
এদিকে, নতুন করে পানি না বাড়লেও, ভাঙন দেখা দেওয়ায় নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে নীলফামারীর বিস্তীর্ণ এলাকা। এর মধ্যেই নতুন করে বিধ্বস্ত হয়েছে বুড়িতিস্তা ডন-বামতীর প্রকল্পের ৯০ মিটার বাঁধ।
জামালপুরে যমুনার পানি বেড়ে বিপদসীমার ১১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নতুন করে বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে প্রায় দুই লাখ মানুষ।
এদিকে, লালমনিরহাটে বিপদসীমার ১০৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে ধরলার পানি। খাদ্য ও পানীয় সঙ্কটের পাশাপাশি দেখা দিয়েছে পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ। বন্যায় নষ্ট হয়ে গেছে ফসলী জমি, সবজির ক্ষেত। ভেসে গেছে মাছের ঘের।
এছাড়া, মুন্সিগঞ্জে পদ্মার পানি ভাগ্যকুল পয়েন্টে বিপদসীমার ৩২ সেন্টিমাটার ওপর দিয়ে বইছে। অব্যাহত রয়েছে মেঘনা, ধলেশ্বরী, ও ইছামতির পানি বৃদ্ধি। এছাড়া, মাদারীপুরে পদ্মার পানি বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় শিবচরের চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকাও প্লাবিত হয়েছে।