টানা দশদিন পরে ভোলার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় মেঘনার পানি ৫০ সেন্টিমিটার থেকে নেমে বিপদসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
ভোলায় বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। তবে, পানীয় জল ও খাদ্য সঙ্কটের পাশপাশি সেখানে দেখা দিয়েছে ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত রোগের প্রকোপ।
কীর্তনখোলা, আড়িয়াল খাঁ, তেঁতুলিয়া, বিষখালীসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি বেড়ে বরিশাল পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তীব্র স্রোতের কারণে দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন। এরই মধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে ঘরবাড়ি, রাস্তা, বাজার, কবর ও ফসলি জমি। ভাঙনে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে নদীবেষ্টিত মেহেন্দিগঞ্জের।
ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের এর মধ্যেই ত্রাণ তৎপরতা শুরু করেছে স্থানীয় জেলা প্রশাসন ও সংসদ সদস্য।
এদিকে, নদ-নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় ও পদ্মায় তীব্র ভাঙন দেওয়ায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের ফেরি চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ার চারটি ফেরিঘাটের তিনটিই বন্ধ হয়ে গেছে। একটি ঘাট চালু থাকলেও তা দিয়ে ভারী যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে না। তীব্র স্রোতের কারণে অন্য রুটে ফেরি চলাচল করায় সময়ও লাগছে বেশি।
এতে দৌলতদিয়া জিরো পয়েন্ট থেকে পদ্মার মোড় পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তা জুড়ে আটকা পড়ে আছে বাস-ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন। পরিবহনের দুর্ভোগ উঠেছে চরমে।
যানজট সমস্যা সমাধানে বিকল্প পথে বা যমুনা সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচলের পরামর্শ দিয়েছে রাজবাড়ী জেলা পুলিশ।
জামালপুরের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন বন্যা কবলিতরা। দুর্গতদের মধ্যে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে।