টানা এগারো দিন পরে ভোলার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মেঘনার পানি ৫০ সেণ্টিমিটার থেকে নেমে বিপদসীমার ১৩ সেণ্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্লাবিত এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে।
তবে এখনো ঘরে ফিরেতে পারছেন না বন্যার্তরা। এখানেও দুর্গত এলাকায় ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ-বালাই ছড়িয়ে পড়েছে।
কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও ক্ষতিগ্রস্থ ঘর-বাড়িতে এখন ফিরতে পারছেন না অনেক পরিবার। বাঁধ ও পাকা সড়কে, খোলা আকাশের নীচে দুর্বিসহ দিন কাটছে তাদের। বিশুদ্ধ খাবার পানি ও খাদ্যের সংকটে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। এছাড়া পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বানভাসী মানুষ। বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ফসলের। বিদ্ধস্থ হয়ে পড়েছে কাঁচা-পাকা সড়ক, ব্রীজ-কালভার্ট ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ।
জামালপুরের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন বন্যা কবলিতরা। দুর্গতদের মধ্যে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে।
এদিকে, নদ-নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় ও পদ্মায় তীব্র ভাঙন দেওয়ায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের ফেরি চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ার চারটি ফেরিঘাটের তিনটিই বন্ধ হয়ে গেছে। একটি ঘাট চালু থাকলেও তা দিয়ে ভারী যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে না। তীব্র স্রোতের কারণে অন্য রুটে ফেরি চলাচল করায় সময়ও লাগছে বেশি। এতে দুর্ভোগ উঠেছে চরমে।
কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণ ও নদীতে জোয়ারের পানির চাপে চন্দনীমহল কাটাবল এলাকায় ভৈরব ও আত্রাই নদের মোহনায় বেড়ীবাধ ভেঙে ভেতরে পানি ঢুকে গেছে। এতে, ভুঁইপাড়া, মালোপাড়া, কাঁটাবনসহ দক্ষিণ চন্দনীমহলের শতাধিক পরিবার জোয়ের পানিতে ডুবে গেছে। তলিয়ে গেছে পুকুর, মৎস্য ঘের ও ফসলী জমি।