চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ইউরিয়া সার কারখানা লিমিটেড (সিইউএফএল) সংলগ্ন ডিএপি সার কারখানায় অ্যামোনিয়া গ্যাসের রিজার্ভার লিকেজের ঘটনাস্থলে বুধবার তৃতীয় দিনেও পানি ছিটিয়ে গ্যাস নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে যাচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।
আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক জসিম উদ্দিন বলেন, ট্যাংকের সঙ্গে সংযুক্ত পাইপ ও লিকেজ হওয়া ট্যাংকের ফাটলে অ্যামোনিয়া গ্যাস জমে রয়েছে। মাটিতে লেগে থাকা অ্যামোনিয়া গ্যাস যাতে বাতাসে ছড়াতে না পারে তাই সেখানে পানি ছিটানো হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের ৪০ জন কর্মী তিনটি পাম্প দিয়ে সকাল থেকে একাজ করে যাচ্ছেন।
তিনি আরো বলেন, সোমবার রাত ১১টার দিকে সার কারখানাটির গ্যাসের ট্যাংকে লিকেজ হয়ে অ্যামোনিয়া গ্যাস বেরিয়ে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে, ট্যাঙ্কের লিকেজ থেকে অ্যামোনিয়া নিঃসরণের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ডাই অ্যামোনিয়া ফসফেট সার কারখানার আশপাশের এলাকার পরিবেশের ওপর এরইমধ্যে বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। মরে যাচ্ছে মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী ও গাছের পাতা।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন।
বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) চেয়ারম্যান মো. ইকবাল বলেন, ট্যাঙ্কের লিকেজ থেকে গ্রাস ছড়িয়ে পড়ায়, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও খামারীদের রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
গত সোমবার রাত ১০টার দিকে কর্ণফুলী নদী তীরবর্তী চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) সংলগ্ন ডাই অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সার কারখানার ট্যাংক লিক হয়ে অ্যামোনিয়া গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে।
এ সময় আশপাশের ১০ কিলোমিটার এলাকায় বিষক্রিয়া অসুস্থ হয়ে মোট ৫২ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসতাপালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনা তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।