হাইতি উপকূলে শক্তিশালী হারিকেন ম্যাথিও প্রভাবে ১০ জন ও দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণ উপকূলে টাইফুন শাবার আঘাতে ৬ জনের মৃত্যু ও ৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
হাইতি উপকূলে শক্তিশালী হারিকেন আঘাত হানার পর উদ্ধারকর্মীরা দুর্গত এলাকায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।
ম্যাথিউ এখন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে— এটি এখন অবস্থান করছে বাহামা দীপে। হাইতিতে হারিকেন ম্যাথিওর আঘাতে অন্তত ১০ জন মারা গেছেন। বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একথা জানিয়েছে। ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে কয়েক দশকের মধ্যে আঘাত হানা এটাই সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড়।
ম্যাথিও’র প্রভাবে হাইতিতে প্রবল বৃষ্টিপাত ও প্রলয়ঙ্কারী বাতাস বয়ে গেছে— এতে অঞ্চলটির দরিদ্রতম দেশটিতে অবর্ণনীয় ক্ষতি হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুইলাউমে অ্যালবার্ট মোলেওন বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, এটি একটি আংশিক চিত্র— আমাদের হাতে এখনও তথ্য আসছে।
এদিকে, গ্রান্ডে অ্যানসের সঙ্গে ১৮ ঘণ্টা ধরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। যোগাযোগ পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর মৃতের সংখ্যা আরো বেড়ে যাওয়ার খবর জানা যেতে পারে বলে কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে।
মোলেওন বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত সতর্ক রয়েছি— তবে পরিস্থিতি যথেষ্ট আশঙ্কাজনক বলে মনে হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, ইতোমধ্যে ২৫ জন আহত ও ৮ জনের কলেরায় আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় নগরী জেরেমিতে হেলিকপ্টার দিয়ে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের পর জানা গেছে, বহু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগটির কারণে প্রধান প্রধান কৃষি জমি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং বন্যার পানিতে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
একটি সেতু ধসে যাওয়ার পর জরুরি ত্রাণ তৎপরতা স্থগিত রয়েছে।
এই সেতুটির মাধ্যমে পোর্ট-অ-প্রিন্স ও দক্ষিণাঞ্চলীয় উপদ্বীপের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা হয়েছিল।
নদীগুলোর পানি উপচে বাইপাস সড়কগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণ উপকূলে টাইফুন শাবার আঘাতে ৬ জনের মৃত্যু ও ৪ জন নিখোঁজ রয়েছে। ঝড়ের প্রভাবে ওই অঞ্চলে শক্তিশালী বাতাস ও ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে।
তবে ঝড়ের তাণ্ডব শেষে বৃহস্পতিবার কর্তৃপক্ষ ধ্বংসস্তুপ পরিষ্কার করে ফেলেছে।
বুধবার কোরীয় উপদ্বীপের দক্ষিণ প্রান্তের উপর দিয়ে প্রলয়ঙ্করী ঝড়টি বয়ে যায়। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী বুসান বন্দর ও শিল্প নগরী উলসানে ঝড়ের আঘাতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
উলসানে এক ব্যক্তি তার অ্যাপার্টমেন্টের কাছেই পানিতে ডুবে মারা গেছে এবং এক নারীকে বন্যার পানিতে প্লাবিত একটি আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিং লটে মৃত পাওয়া গেছে।
ঝড়ের আঘাতে উপকূলীয় এলাকার ২ লাখ ৩০ হাজার বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
তবে কোরিয়া ইলেক্ট্রিক পাওয়ার কর্পো. জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হচ্ছে।
উলসানে ঝড়ের সময় দুটি গাড়ি কারখানা বন্ধ করে দেয়া হয় এবং বন্যার ক্ষতির কারণে বৃহস্পতিবার একটি কারখানা রন্ধ রয়েছে। উলসানে বিখ্যাত কোম্পানি হাইয়ুনদাই মোটোরের প্রধান কারখানাগুলো অবস্থিত।
কোম্পানির এক নারী মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা যত দ্রুত সম্ভব পুনরায় আমাদের কার্যক্রম শুরু করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছি। কিন্তু নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আরো সময়ের প্রয়োজন।’
সরকারি নজরদারীর ক্যামেরাগুলির ভিডিওচিত্রে বন্যার পানিতে নিমজ্জিত রাস্তায় গাড়ি, রেফ্রিজারেটর ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ ভাসতে এবং কোমর সমান কাদা পানিতে মানুষকে কষ্ট করে চলাফেরা করতে দেখা গেছে।
ঝড়ের কারণে এশিয়ার বৃহত্তম চলচ্চিত্র বিষয়ক অনুষ্ঠান বুসান ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভাল এর প্রস্তুতিও বিঘ্নিত হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে অনুষ্ঠানটির পর্দা উঠার কথা রয়েছে।
বুসানের প্রধান দ্বীপ হায়েউন্দাই বিচে উৎসবটি আয়োজনের কথা ছিল। কিন্তু ঝড়ো হাওয়ার কারণে স্থানটি বাতিল বা অনুষ্ঠানটি ইনডোরে আয়োজন করা হতে পারে।