ভোক্তাদের স্বল্পমূল্যে বিদ্যুৎ দিতে মহাপরিকল্পনার একটি খসরা রুপরেখা উপস্থাপন করেছে তেল-গ্যাস- বিদ্যুৎ-বন্দর জাতীয় রক্ষা কমিটি।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসকক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ রুপরেখা উপস্থাপন করেন কমিটির সদস্য সচিব আনু মুহাম্মদ।
জাতীয় কমিটির প্রস্তবনায় ২০৪১ সালের মধ্যে প্রায় ৯২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের রুপরেখা দেয়া হয়েছে। যাতে স্বল্প মেয়াদে মূল জ্বালানি হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাস এবং দীর্ঘ দেয়াদে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
জাতীয় কমিটির দাবি, এ রুপরেখা বাস্তবায়ন করলে বিদ্যুতের দাম কমবে পাশাপাশি বিদেশের ওপর নির্ভরতাও কমবে।
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে সরকার যে মহাপরিকল্পনা করেছে তাকে পরিবেশ বিধ্বংসী, জনবিরোধী এবং ভারত-রাশিয়া ও চীন নির্ভর বলে মনে করে জাতীয় কমিটি। তাই সরকারের মহাপরিকল্পনার বিপরীতে নতুন মহাপরিকল্পনার খসরা রুপরেখা প্রস্তাব করেছে তারা।
কমটির রুপরেখা অনুযায়ী স্বল্পমেয়াদে ২০২১ সালের মধ্যে ২৫ হাজার ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যার ৫৯ শতাংশ আসবে গ্যাস থেকে, ১৯ শতাংশ তেল থেকে, ১০ শতাংশ নবায়নযগ্য জ্বালানি এবং ১২ শতাংশ অন্যান্য খাত থেকে।
মধ্য মেয়াদে ৪৯ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের লক্ষ্যমাত্রা। তাতে গ্যসের পরিমাণ কমে ৪৯ শতাংশে নেমে আসবে। আর নবায়নযোগ্য জ্বালানির পরিমাণ বেড়ে ৩৯ শতাংশে উঠবে, অন্যান্য উৎস থেকে ১২ শতাংশ।
দীর্ঘ মেয়াদে ২০৪১ সালের লক্ষ্যমাত্রা ৯১ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট। যার জন্য ৫৫ শতাংশ আসবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ৩৭ শতাংশ গ্যাস থেকে এবং ৮ শতাংশ অন্যান্য।
জাতীয় কমিটির দাবি, বায়ু ও সৌরশক্তির প্রাপ্যতা এবং গ্যাসের সম্ভাব্য মজুদের যথাযথ ব্যবহার করলে জ্বালানির কোনো অভাব হবে না।
প্রস্তবনা অনুযায়ী এ রুপরেখা বাস্তবায়িত হলে স্থিরমূল্যে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় দাম নেমে আসবে ৫ টাকা ১০ পয়সায়।