মহাজাগতিক নিয়ম মেনে আজ (মঙ্গলবার) চাঁদ চলে আসবে পৃথিবীর খুব কাছাকাছি। চাঁদকে দেখা যাবে তার স্বাভাবিক আকৃতি থেকে কয়েকগুণ বড়। চাঁদ ওঠার কিছুক্ষণ পর পরই সুপারমুন দেখার সবচেয়ে সেরা সময়।
এ সুপারমুনকে ‘পূর্ণ বরফ চাঁদ’ নাম দেয়া হয়েছে কারণ এখন পৃথিবীর বেশিরভাগ অঞ্চলে তুষারপাতের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় এমন নামকরন। এছাড়াও এ চাঁদকে স্ট্রোমমুন, হাঙ্গারমুন ও বোনমুনও বলা হয়ে থাকে। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা ৫৩ মিনিট থেকে দেখা যাবে সুপারমুনকে।
যে চাঁদটি আজ আকাশে উঠবে তা ২০১৯ সালের দ্বিতীয় সুপারমুন। এর আগে ২১ জানুয়ারি চলতি বছরের প্রথম সুপারমুন দেখা গিয়েছিল। ২০ থেকে ২১ জানুয়ারির ওই চাঁদটিকে বলা হয়েছে ব্লাড ওলফ সুপারমুন। তা ছিল বেশ রক্তাভ, উজ্জ্বল। এ সুপারমুনটি রক্তাভ না হলেও তা হবে খুবই উজ্জ্বল।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, আজ প্রায় ১৪ শতাংশ বড় দেখাবে চাঁদকে। বেলা সাড়ে তিনটা থেকে দেখা পাওয়া যাবে এ সুপারমুনের। এ বছরে বাকি তিন সুপারমুনের দেখা মিলবে যথাক্রমে আগামী ১২ জুলাই, ১০ আগস্ট ও ৯ সেপ্টেম্বর। আর এদের মাঝে শুধু আগস্ট মাসেই চাঁদ পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে চলে আসবে।
চাঁদের এ অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগের জন্য পৃথিবীবাসী যেমন প্রহর গুনছেন, তেমনি রয়েছে 'সুপারমুন' আতংকও। চাঁদ পৃথিবীর কাছে আসলে প্রতিবারই পৃথিবীতে কোন না কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটে।
পৃথিবী থেকে চাঁদের গড় দূরত্ব ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৪০২ কিলোমিটার। সুপার মুনের ঔজ্জল্য থাকবে স্বাভাবিকের চেয়ে ১২ দশমিক ৫ ভাগ থেকে ১৪ দশমিক ১ ভাগ বেশি। উপবৃত্তাকার কক্ষপথে পৃথিবী থেকে চাঁদের এ নিকটতম অবস্থানকে অনুভূ বা পেরিজি বলা হয়।
এ সময় চাঁদ পৃথিবী থেকে থেকে ২ লাখ ২১ হাজার ৭৩৪ মাইল (৩ লাখ ৬০ হাজার কিলোমিটারেরও কম) দূরত্বে অবস্থান করবে।
আগামী ২০২৬ সালের আগে আর এমন ঘটনা ঘটবে না। শনিবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় আমেরিকান বিজনেস ম্যাগাজিন ‘ফোর্বস’।
এতে বলা হয়, আমেরিকা থেকে আজ ভোরের একটু আগে এবং ইউরোপ, এশিয়া, আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়া থেকে সূর্যাস্তের পর সুপারমুন দেখা যাবে। যদি কেউ সুপারমুন দেখতে চায়, তবে আজ সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।
তবে যদি কেউ এদিন সুপারমুন দেখতে ব্যর্থ হয়- তবে আগামী সাত বছরের আগে আর দেখতে পারবে না।