সুনামগঞ্জে নতুন করে আরও ৩টি হাওর পানিতে তলিয়ে গেছে। সব মিলিয়ে এই জেলার আটটি উপজেলার ২১টি হাওরের ফসলই এখন পানির নিচে।
ভারতের মেঘালয়ে ভারি বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে এমনটি ঘটেছে। এই পানি সুনামগঞ্জের নদ-নদীর ও হাওরে প্রবেশ করেছে। বিশেষ করে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার তিনটি হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে এতে ৩০০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে থাকতে পারে।
এই ঘটনায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন হাওরপাড়ের কৃষকরা। চাষিদের আশঙ্কা, এতে তিনশ একর জমি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ এপ্রিল) রাতে জেলার ছাতক উপজেলার হাটার হাওর এবং বুধবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের রাঙ্গামটিয়া হাওর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলার পুটিয়ার হাওরের বাঁধ ভেঙে যায়।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, জেলার ছাতক উপজেলার ভাতগাঁও এবং সিংচাপড়ই ইউনিয়নের হাটার হাওর। ঢলের পানি থেকে এই হাওরকে রক্ষা করতে কৃষকরা স্বেচ্ছাশ্রমে যুদ্ধ করেও শেষ রক্ষা করতে পারেনি হাওরকে। নিমিষেই তলিয়ে গেছে তাদের কষ্টে ফলানো ফসল।
এদিকে শান্তিগঞ্জ উপজেলার দরগাপাশা ইউনিয়ন ও জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলি ইউনিয়নের পুটিয়ার হাওর এবং মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের রাঙ্গামটিয়া হাওরে পানি ঢুকে সব ধান তলিয়ে গেছে।
সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিমল চন্দ্র সোম জানান, তিনটি হাওরের কতটুকু ধান ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে আমরা তার তালিকা করছি। তবে এই মুহূর্তে ক্ষতির পরিমান বলা যাবে না। এনিয়ে জেলার আটটি উপজেলায় বাঁধ ভেঙে গেছে। হাওরে ধান পুরোদমে কাটা চলছে। আশা করিছ এই সপ্তাহ বা আগামী সপ্তাহের মধ্যে হাওরের সব ধান কাটা শেষ হয়ে যাবে।