পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মোঃ শাহাব উদ্দিন বলেছেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা এ দেশের ভূমি, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, বন ও বাস্তুতন্ত্রের জন্য হুমকি সৃষ্টি করেছে। এমনিতেই প্রতি বছর ৬৯ হাজার হেক্টর জমি হারাচ্ছে দেশ। তার উপর এক বিলিয়ন রোহিঙ্গার বসবাস দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকি স্বরুপ।
মঙ্গলবার রাতে আইভরি কোস্টের রাজধানী আবিদজানে অনুষ্ঠানরত জাতিসংঘ মরুকরণ প্রতিরোধ বিষয়ক ১৫তম সম্মেলনের 'ল্যান্ড রিস্টোরেশন: এ পাথ টু সাসটেইনেবল পোস্ট প্যানডেমিক রিকভারি' শীর্ষক ২য় রাউন্ড টেবিল বৈঠকে পরিবেশমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা দীপংকর বর কর্তৃক পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শাহাব উদ্দিন ঐ টেবিল বৈঠকে বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশ থেকে আমাদের দেশে এক মিলিয়ন লোকের (রোহিঙ্গা) জোরপূর্বক অভিবাসন আমাদের ভূমি, জীবন, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, বন ও বাস্তুতন্ত্রের জন্য বিরাট হুমকি সৃষ্টি করেছে। মাটি, উদ্ভিদ ও প্রাণীজগত এবং বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি কোভিড-১৯ এবং ইবোলার মতো অভিনব রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি করছে। বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল মরুকরণের হুমকিতে রয়েছে। ভূমি পুনরুদ্ধার সবুজ পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করতে পারে। মরুকরণ প্রতিরোধে বাংলাদেশ ইউএনসিসিডি সচিবালয়ের পাশাপাশি গ্লোবাল মেকানিজমের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সমর্থন প্রত্যাশা করে।'
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, রাস্তার ধারে বৃক্ষরোপণ, উপকূলীয় বনায়ন এবং সামাজিক বনায়ন হচ্ছে বাংলাদেশের সফল ভূমি-ভিত্তিক অভিযোজন কার্যক্রমের প্রকৃষ্ট উদাহরণ। আমরা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, মরুকরণ প্রতিরোধ এবং পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড অ্যাকশন প্ল্যান এবং বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যানন-২১০০ প্রণয়ন করেছি এবং মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলমান আছে। আমরা দ্রুত বর্ধনশীল ফসল, শাকসবজি এবং ফলের জন্য টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তির সর্বোত্তম চর্চা চালু করেছি। টেকসই ভূমি ব্যবস্থা চালু করে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় বরেন্দ্র অঞ্চলকে সবুজ এলাকায় পরিণত করা হয়েছে।