তরমুজে ক্ষতিকারক উপাদান পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)।
সোমবার প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মাহমুদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, কুষ্টিয়া ও মানিকগঞ্জ থেকে আনা তরমুজ ন্যাশনাল ফুড টেস্টিং ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়েছে, তবে এতে কোনো ক্ষতিকর উপাদানের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে অসুস্থদের শরীরে ই-কোলাই ব্যাক্টেরিয়ার উপাদান পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, গত ১৯ এপ্রিল কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে তরমুজ খেয়ে ৩০ জন অসুস্থ হয়ে পড়েন। যে তরমুজটি খেয়ে ২ শিশু মারা গেছে সেটিতেও কোনো রাসায়নিক দ্রব্য পায়নি আইইডিসিআর।
মাহমুদুর রহমান বলেন, কুমারখালীতে যে শিশুটি তরমুজ খেয়ে অসুস্থ হওয়ার পর মারা গেছে তার দেহে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হয়েছিল। আইইডিসিআর তরমুজটির ওপর ৩৬ ধরনের পরীক্ষা চালায়। এতে কোনো রাসায়নিক দ্রব্য, রং বা ফরমালিন পাওয়া যায়নি। সম্ভবত তরমুজটি ফাটা ও গন্ধযুক্ত ছিল।
তিনি বলেন, তরমুজে কোনো ক্ষতিকর উপাদান ছিল না মূলত ই-কোলাই ভাইরাসের সংক্রমণে অসুস্থ হয়ে পড়েন তরমুজ খাওয়া ব্যক্তিরা। এছাড়াও এক ব্যক্তির শরীরে স্যালমনেল ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
তরমুজ কেনার আগে কোনো ফাটা আছে কি না, তা ভালোভাবে দেখে নেয়ার জন্য ক্রেতাদের অনুরোধ জানিয়েছে আইইডিসিআর। তরমুজ খাওয়ার আগে ফল ভালো করে ধুয়ে নেয়া ও দুর্গন্ধ আছে কি না, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকার পরামর্শও দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
জানা গেছে, কুমারখালীতে তরমুজ খাওয়ার পর প্রথমে তাদের পেটে ব্যথা হয়, এরপর ডায়রিয়া, বমি ও পানিশূন্যতা তৈরি হয় তাদের শরীরে।
ভুক্তভোগীরা বলেন,খাওয়ার সময় তাদের কাছে পচা মনে হয়েছিল তরমুজটি। খাওয়ার পর অস্বস্তি বোধ করায় গত ২০ এপ্রিল ৩০ জন হাসপাতালের যান। সেখানে চিকিৎসকেরা ২৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করে। আর ৬ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি ফিরিয়ে দেন।
এদিকে, গত ২২ এপ্রিল একইভাবে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় ১১ জন তরমুজ খাওয়ার পর ৯ জন অসুস্থ হয়ে পড়েন। তবে এখানেও তরমুজে কোনো ধরনের বিষাক্ত উপাদান পাওয়া যায়নি।
গবেষণা দলের সদস্যরা মনে করছেন থেঁথলে যাওয়া তরমুজ বা তরমুজের ফাটল দিয়ে ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করে থাকতে পারে।
ঘটনার বর্ণনায় জানা গেছে, গত ১৯ এপ্রিল কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় কালোয়া গ্রামের আসকর আলী ওই দিন দুপুরে কুমারখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে তরমুজ কিনে বাড়ি নিয়ে যান। ওই তরমুজ খাওয়ার পর পরই তার পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে আসকর আলীর মেয়ে সেজুতি আলী স্মৃতি (৯) এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তার ছেলে অনিকের (১১) মৃত্যু হয়। এরইমধ্যে এ ঘটনায় তরমুজ বিক্রেতা মোজামকে আটক করা হয়েছে।