বিশ্বের স্বাস্থ্য সমস্যার উন্নতি করতে হলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্বাস্থ্যসেবার উন্নতি করতে হবে—জানিয়ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে এশিয়া অঞ্চলের ১১টি দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রীদের নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ৩২তম সভা এবং আঞ্চলিক পরিষদের ৬৭তম সম্মেলনের উদ্বোধন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ অঞ্চলেই রোগ ও মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি, জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে পরিণত করতে ও উন্নয়নকে টেকসই করতে সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষাই উত্তম ব্যবস্থা।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ অঞ্চলের রোগ ও মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। সবাই মিলে এ অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করতে পারলে বিশ্বে এ খাতে ব্যাপক উন্নতি হবে। এ অঞ্চলের স্বাস্থ্যমন্ত্রীগণ এসব চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে সচেতন আছেন। ডাব্লিউএইচও এ গুরুত্বপূর্ণসভায় আপনারা এর ফলপ্রসূ খুঁজে বের করতে পারবেন বলে বিশ্বাস করি।’
এমডিজি-৫ অর্জনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সঠিক পথেই রয়েছে—এ দাবি করে তিনি আরো বলেন, স্বাস্থ্যখাতে সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে সরকার জনগণের প্রতি অঙ্গীকার পূরণ করে চলেছে।
এ সময় স্বাস্থ্যখাতে বিএনপি-জামাত সরকারের নীতির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার গঠন করে স্বাস্থ্যখাতে ব্যাপক উন্নয়ন করা হয়েছি। দেশের হাসপাতালগুলোতে বেডের সংখ্যা, চিকিৎসকের সংখ্যা, নার্সের সংখ্যা এবং চিকিৎসা যন্ত্রপাতি শুল্কমুক্ত করা হয়েছে। ফলে বেসরকারি খাত স্বাস্থ্যসেবায় এগিয়ে এসেছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘গ্রামাঞ্চলে প্রতি ৬ হাজার মানুষের জন্য একটি করে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ২০০১ সালে নেয়া পরবর্তী সরকার এ ক্লিনিকগুলো বন্ধ করে দেয়ায় মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছিল সেটা আবার চালু করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ৩ দিনব্যাপী এ সম্মেলনে জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিষয়ক নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রাধান্য পাবে যার সুপারিশমালায় বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন থাকবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে জনস্বাস্থ্যের ওপরে বিরূপ প্রভাবগুলো বিষয়ে আলোচনা হবেও বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।