জনগণের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে সারাদেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে সঠিকভাবে স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন মোহাম্মদ নাসিম।
বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে কালাজ্বরের চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে পরিচালিত গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, আমি একজন রাজনীতিবিদ, রাজনীতিবিদ হিসেবে আমার দল আছে। কিন্তু স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে আমার কোনো দল নেই। আমি জনগণের স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাই সঠিকভাবে সবার মাঝে আমি যাতে স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দিতে পারি তার জন্য সবাই সহযোগিতা করবেন। আমি সবার সহযোগিতা চাই।’
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, মানুষ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়েছে, গরীব মানুষও ভাল খাবার খাওয়ার চেষ্টা করেন। আমরা শিশুমৃত্যুর হার কমিয়েছে, মাতৃমৃত্যু হার কমিয়েছি। দরিদ্র মানুষকে বাঁচাতে হলে কালাজ্বর, যক্ষ্মার মতো রোগ প্রতিরোধ করতে হবে। আমি বিশ্বাস করি বাংলাদেশের চিকিৎসকরা যে কোনো রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম হবে।
ইবোলা নিয়ে বাংলাদেশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন দেশ থেকে আগত যাত্রীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে ইবোলা পরিক্ষা নিরীক্ষার জন্য আমাদের ২৫টি টিম কাজ করছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তবে ইবোলা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। উন্নত দেশে ইবোলার সংক্রমণ ঘটলেও বাংলাদেশের চিকিৎসকেরা ইবোলা সংক্রমণ রোধে সফল হবেন।
বিমানবন্দরে সকল রোগীর জ্বর পরিক্ষার জন্য শিগগিরই থার্মস্ক্যানার আনা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, বিদেশ থেকে আগত কোনো যাত্রীর শরীরে জ্বর আছে কী না তা পরীক্ষা করার জন্য এ থার্মস্ক্যানার আনা হবে। ইতোমধ্য এই যন্ত্র আমদানির নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।
‘বাংলাদেশে রোগ নিরাময় গবেষণায় অর্থবরাদ্দ অনেক কম’ জানিয়ে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে আশ্বস্ত করেছেন, বাংলাদেশ থেকে ম্যালেরিয়া, কালাজ্বর, যক্ষ্মা প্রতিরোধের জন্য যারা গবেষণা করবেন তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কালাজ্বর নির্মূলে বাংলাদেশ, ভারত ও নেপাল কাজ করে যাচ্ছে। এখন আমরা রোগকে জয় করছি। ৬০ এর দশকে বাংলাদেশে কালাজ্বর ছিল। আবার ৮০ দশকে কালাজ্বর দেখা দিয়েছে। এর কারণ হচ্ছে যে ওষুধ ছিল তা অকার্যকর হয়ে গেছে।
সেমিনারে কালাজ্বর নির্মূলে বিভিন্ন ওষুধের প্রয়োগ ও চিকিৎসা পদ্ধতি বিষয়ক গবেষণার প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
সেমিনারে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের অধ্যাক্ষ এ বি এম মাকসুদুল আলমের সভাপতিত্বে সভায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ডা. দীন মো. নুরুল হক বক্তব্য রাখেন।