পশ্চিম আফ্রিকার ৩টি দেশে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতি ভাইরাস ইবোলা। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, প্রাদুর্ভাবের পর থেকে এ পর্যন্ত ইবোলায় চার হাজার ৪৪৭ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এ ভাইরাস মানবদেহে সংক্রমিত হলে ৭০% ক্ষেত্রেই রোগীর মৃত্যু ঘটে। ইবোলা সংক্রমণকে এখনই না থামানো গেলে বিশ্বকে নজিরবিহীন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে বলে সতর্ক করে দিয়েছে জাতিসংঘ।
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক কঙ্গোতে ১৯৭৬ সালে প্রথমবারের মতো ইবোলা ভাইরাস সনাক্ত হয়। এর ৪০ বছর পর এবারই ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে এতো ব্যপক সংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ঘটনা ঘটছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু'র তথ্য অনুযায়ী এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মারা গেছে সাড়ে চার হাজার মানুষ।
বর্তমানে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় নয় হাজার। পশ্চিম আফ্রিকার সিয়েরালিওন, লাইবেরিয়া ও গিনিতে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ।
সাধারণত ফলাহারি বাদুরের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। সংক্রমিত ব্যক্তির রক্ত, লালা, ঘাম, প্রস্রাব, পুরুষের বীর্য ইত্যাদির মাধ্যমে মানুষের দেহে ছড়াতে থাকে। এ ভাইরাসের লক্ষণ প্রকাশ হতে দুই দিন থেকে ২১ দিন পর্যন্ত সম লাগতে পারে।
এটি আক্রান্ত ব্যক্তির লিভার, কিডনি অকেজো করে দেয়, রক্তচাপ ও হৃদপিন্ডের স্পন্দন কমিয়ে দেয় এবং শ্বাস প্রশ্বাস ব্যাহত করে। এই ভাইরাস মানবদেহে সংক্রমিত হলে ৭০% ক্ষেত্রেই রোগীর মৃত্যু ঘটে।
এদিকে, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে ইবোলায় আক্রান্ত রোগীকে সেবা করার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এমন ২জন নার্সের শরীরে ইবোলা ভাইরাস পাওয়া গেছে। ইবোলা সঙ্কট মোকাবেলায় দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা।
জাতিসংঘের ইবোলা মিশনের প্রধান অ্যান্থনি ব্যানবেরি বলেছেন, ইবোলা সংক্রমণকে এখনই না থামানো গেলে বিশ্বকে নজিরবিহীন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।