আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী স্বাস্থ্যখাতে কমপক্ষে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির ৫% বরাদ্দ প্রয়োজন হলেও দেশের এ খাতে বরাদ্দ ক্রমেই কমছে। স্বাস্থ্যসেবায় জনপ্রতি বরাদ্দ বছরে মাত্র ৩৯০ টাকা। অথচ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী এটি হওয়া উচিত জনপ্রতি ২৬৫২ টাকা।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যখাতে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায় শীর্ষক টিআইবি'র এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
এতে আরো বলা হয়, দেশে প্রতি তিন হাজার ২৯৭ জনের বিপরীতে চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র একজন। আর ১১ হাজার ৬৯৬ জনের জন্য রয়েছে মাত্র একজন নার্স, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের চেয়ে অনেক কম।
নামমাত্র বরাদ্দের কারণেই স্বাস্থ্যখাতের অর্জন কখনোই দৃশ্যমান হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান।
স্বাস্থ্য খাতে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে ১০ হাজার থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও ক্ষমতাসীন দলের নেতারা এই উৎকোচ গ্রহণ করে থাকেন।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যাডহক চিকিৎসক নিয়োগে তিন থেকে পাঁচ লাখ এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগে এক থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেনের অভিযোগ আছে। সবচেয়ে বেশি টাকার লেনদেন হয় ঢাকা ও ঢাকার আশপাশের জেলায় পদায়নের ক্ষেত্রে। এ খাতে নিয়মবহির্ভূতভাবে লেনদেন হয় পাঁচ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত। এমনকি চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা সুবিধাজনক জায়গায় দীর্ঘদিন থাকার জন্য আড়াই লাখ বা তার চেয়েও বেশি টাকা দিয়ে থাকেন।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পদোন্নতির ক্ষেত্রে চাকরির অভিজ্ঞতা, জ্যেষ্ঠতা ও উচ্চতর শিক্ষাগত যোগ্যতাকে বিবেচনা করা হয় না। এ ছাড়া প্রকাশনাকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন, সিনিয়র স্কেল পরীক্ষায় পাস বা বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন সন্তোষজনক কি না, তা-ও সব ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয় না।
গবেষক তাসলিমা আক্তার বলেন, চিকিৎসক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমের কর্মীদের সঙ্গে আলোচনায় তিনি এ তথ্য পান। এ ছাড়া ২০১২ সালে টিআইবির জাতীয় খানা জরিপ ২০১২–এর তথ্য তিনি ব্যবহার করেছেন। ওই জরিপে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণকারী মোট খানা ছিল ৩ হাজার ২০৮ এবং অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল ১৪ হাজার ২৭৬ জন।
তাসলিমা বলেন, স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের চাহিদা না থাকা সত্ত্বেও যন্ত্রপাতি কেনা হয়, যন্ত্রপাতি মেরামতে অনেক ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ঔষধাগার ও মেরামতকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান নিয়মিত দুর্নীতির আশ্রয় নেয়। এ ছাড়া পথ্য সরবরাহে ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক প্রভাব দেখা যায়। ঠিকাদার বাছাইয়েও অনিয়মের আশ্রয় নিতে দেখা যায় প্রায়ই।
গবেষণা প্রতিবেদনে বিভিন্ন আইনের সীমাবদ্ধতা ও নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ যেমন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইন প্রয়োগে দুর্বলতার অভিযোগ তোলা হয়।