সঠিক পরিকল্পনার অভাবে ব্যহত হচ্ছে এইডস রোগীদের চিকিৎসা সেবা। বিদেশি দাতাসংস্থাগুলো এ প্রকল্পে অর্থায়ন বন্ধ করে দিচ্ছে। ১ জানুয়ারি থেকে দেশের প্রায় সাড়ে তিন হাজার এইডস আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশংকা করছে সেবাদানকারি সংস্থাগুলো। বাংলাদেশে এখন এইডস আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় চার হাজার। এইডস নিয়ে কাজ করা বেসরকারী সংস্থাগুলো বলছে, এখনই উদ্যোগ না নিলে এই রোগও মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
প্রতিবেশি ভারতে ২০১৩ সালে এ রোগের আগের ধাপ এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৪০ লাখ। আরেক পাশে দেশ মিয়ানমারে এ সংখ্যা ১০ লাখ। আর শ্রীলঙ্কায় এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যাও কম না। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে আক্রান্তের সংখ্যা সরকারি হিসেবে প্রায় চার হাজার। আর বেসরকারি হিসেবে সাড়ে ৯ হাজার। এর মধ্যে দেড়শো রয়েছে শিশু। মারা গেছেন প্রায় ১ হাজার।
অন্যান্য দেশের মতো প্রতি বছর বাংলাদেশেও ১ ডিসেম্বর এইডস দিবস পালন করা হয়। বলা হচ্ছে, এদেশে এইচআইভি সংক্রমণ ও এইডস বিস্তারের হার কম। কিন্তু ক্রমেই তা বেড়ে চলেছে। ১৯৮৯ সালে প্রথম শনাক্ত হওয়া ১ জন থেকে এইডস রোগীর সংখ্যা বেড়ে এখন চার হাজারে পৌঁছেছে।
এইডস প্রতিরোধে তিনটি বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে বিদেশি দাতাসংস্থার সহায়তা নিয়ে প্রায় ১৪০০ জনকে বিভিন্নভাবে চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। কিন্তু ২০১২ সালে ঘোষণা দেয়া হয় যে সরকারিভাবেই এ সেবা দেয়া হবে। ফলে দাতাসংস্থাগুলোর চলমান প্রকল্পের মেয়াদ শেষে ১ জানুয়ারি থেকে তাদের সহায়তা বন্ধ হয়ে যাবে। এদিকে, সরকার দুই বছরেও সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেনি।
সামাজিকভাবে অগ্রহণযোগ্য হওয়ায় অনেকেই এইডস সম্পর্কে খোলামেলা আলোচনায় সংকোচ বোধ করেন। একঘরে হবার ভয়ে এখনো অনেকেই পরীক্ষা করাতে চান না। ফলে এ রোগের বিস্তার আরও বেড়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।
তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ২০১৫ সাল থেকেই সরকারিভাবে সরাসরি ঘাতক ব্যাধি এইডসের সেবা দেয়া হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ৫টি সরকারি হাসপাতালসহ মোট ১১টি হাসপাতালে আলাদাভাবে চিকিৎসা সেবা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
তবে এইডস সংক্রমনের ঝুঁকি কমাতে সরকার ও বিভিন্ন সেবা সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে কাজ করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।