বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ নবজাতক জন্মগতভাবে কোনো না কোনো রোগ নিয়ে জন্মগ্রহণ করে— এসব রোগ নিরাময় যেমন কষ্ঠসাধ্য তেমনি ব্যয়বহুল বলে জানান ভারতের সেন্টার অব মেডিকেল জেনেটিকসের পরিচালক ডা. আই সি ভারমা। রোববার রাজধানীর ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরোসায়েন্সে দুই দিনের সেমিনারে তিনি এ তথ্য জানান।
তবে জন্মগত এসব রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব— উল্লেখ করে এ ধরণের রোগ প্রতিরোধ ও সনাক্তকরণের জন্য একটি জেনেটিক ল্যাবরেটরি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠনের দাবি জানান অনুষ্ঠানে আগত বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা।
নিরাপদ মাতৃগর্ভও যেন নিরাপদ না। তাই পৃথিবীর আলোতে আসার সঙ্গে সঙ্গে ধরা পরে অন্য দশটা নবজাতকের মত সুস্থ স্বাভাবিক ভবিষ্যৎ এদের জন্য নেই। মাতৃগর্ভ থেকেই বাসা বেধেছে থ্যালাসেমিয়া আর বিকলাঙ্গের মত রোগ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, দেশে প্রতিদিন যত শিশু জন্ম নেয়, তার কমপক্ষে ৫% মাতৃগর্ভেই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। এসব জন্মগত রোগের অভিশাপ বহন করছে, বর্তমানে দেশে এমন মানুষের সংখ্যা দেড় কোটিরও বেশি।
সেমিনারে বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা বলছেন, এসব রোগের চিকিৎসা যেমন কষ্ঠসাধ্য তেমনি ব্যয়বহুল। তবে সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব।
জাতীয় অধ্যাপক ডা. এম আর খান বলেন, ‘অনেকগুলো রোগ আছে যেগুলো জন্মগত হয়। অনেক ক্ষেত্রে তাড়াতাড়ি ধরা পড়লে ভালো হয়ে যায়।’
আই সি ভারমা বলেন, ‘অনেক শিশুরা কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়। তার মধ্যে কিছু জন্মগতভাবেই হয়ে থাকে। শিশু জন্মের আগে মাকে চিকিৎসা করানো হলে এ রোগের প্রতিরোধ করা সম্ভব।’
ডাক্তারদের মতে, এ নিয়ে দেশে এখনো কোনো অবকাঠামো নেই। প্রতিরোধ কিংবা প্রতিকার করার মত কোনো ব্যবস্থাও নেই। তাই ডাক্তারদের একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন এবং গবেষণার জন্য একটি ল্যাবরেটরি করার দাবি তাদের।
বারডেম হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. টি এ চৌধুরী বলেন, ‘জেনেটিকস বলে কোনো একটা বিশেষ চিকিৎসা ব্যবস্থা আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মধ্যে এখনো নেই। দেশের একটা প্রধান হাসপাতালে এমন একটা বিভাগ খোলা যায় যেখানে এ ধরণের রোগ নির্ণয়, পরামর্শ দেয়া যেতে পারে, সারা দেশ থেকে ওই সেন্টারে আসতে পারে।’
ন্যাসনাল ইন্সিটিউট অব নিউরোসায়েন্স এন্ড হাসপাতালের পরিচালক ডা. কাজী দীন মোহাম্মদ বলেন, ‘এদেশে একটা লেয়ার তৈরির করার প্রচেষ্টা চালাবো। জন্মগত রোগগুলো নিয়ে আমরা জনসচেতনামূলক প্রচারণা চালাতে পারবো এবং কিছু বিরল রোগ নির্ণয় করতে পারবো।’
সরকার এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিলে জন্মগত রোগের প্রকোপ থেকে জাতিকে স্বস্তি দেয়া সম্ভব হবে দাবি করছেন তারা।