অবর্ননীয় কষ্টের পাশাপাশি ক্ষোভের আগুনে পুড়ছেন অবরোধকারিদের পেট্রোলবোমার আগুনে দ্বগ্ধ মানুষেরা। রাজনীতি না করেও কেন তারা অপরাজনীতির নির্মম শিকার? রাজনীতিবিদরা কেনতাদের জীবনকে দুর্বিসহ করলেন সহিংসতায় আগুনে? এ প্রশ্ন হতাহতদের।
শুধু রাজধানীতেই ৭১টি গাড়িতে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা। এতে কমপক্ষে ২১ জন দ্বগ্ধ হন। ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে চিকিতসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ৩ জন। এখনও চিকিৎসা নিচ্ছেন ১২ জন।
এদের মধ্যে সাত জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
চিকিৎসকরা আরো বলেন, পোড়া রোগীদের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয় বহুল। দরিদ্র তো বটেই মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষেও এ চিকিৎসা সেবার ব্যয়ভার বহন করা কঠিন।
অবরোধের ৬ষ্ঠ দিনে দুই ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে পাবনা থেকে বাসে ঢাকায় আসছিলেন আবু তাহের। গাবতলীতে পৌঁছালে দুর্বৃত্তদের ছোঁড়া পেট্রোল বোমার আগুনে পুড়ে দ্বগ্ধ হন আবু তাহের ও দুই ছেলে। সেদিন থেকেই ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।
এদিকে, পেট্রোলবোমার আগুনে পোড়া রুগীদের আহাজারিতে ভারি ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে পরিবেশ। আগুনে পোড়ার কষ্টের পাশাপাশি এসব মানুষেটর ভেতরটা পুড়ছে ক্ষোভের আগুনেও।
সাধারণ মানুষ হয়েও রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার কেন হতে হলো এ প্রশ্ন তাদের?
অবরোধের দুই সপ্তাহে সারাদেশে ২৮০টি গাড়িতে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এতে শতাধিক মানুষ অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। মঙ্গলবার পর্যন্ত সহিংসতায় নিহত ২৫ জনের মধ্যে ১২ জনই মারা গেছেন পেট্রোল বোমার আগুনে।