অবরোধ-হরতালে বোমায় দগ্ধ আরো একজন ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে মারা গেছেন।
এদিকে, লক্ষ্মীপুরে অবরোধকারীদের ছোড়া পেট্রোলবোমায় রোববার রাতে সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালক লিটন হোসেন ওরফে নয়নকে ঢাকা নেয়ার পথে সোমবার ভোরে মারা যান। এ ঘটনায় আরো তিন জন দগ্ধ হন।
গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন পেট্রোল বোমায় দগ্ধ নূরে আলম। এ নিয়ে চলমান সহিংসতায় বার্ন ইউনিটে মৃতের সংখ্যা দাড়ালো ৭ জনে। নতুন করে ভর্তি হয়েছেন বোমায় দগ্ধ আরো দু'জন।
দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট-ঢামেক অধ্যাপক সাজ্জাদ খোন্দকার এ তথ্য জানিয়েছেন।
এদিকে, সহিংসতায় দগ্ধ রোগীদের চাপ সামলাতে ঢাকার মধ্যে মুগদা, কর্মিটোলা, সোহারাওয়ার্দী হাসপাতাল ও ঢাকার বাহিরে নারায়ণগঞ্জ ও টঙ্গী হাসপাতালকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এছাড়া দেশের সব জেলা হাসপাতালে দুইটি করে বড প্রস্তত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন-বিএমএ'র মহাসচিব ডা ইকবাল আর্সলান।
গত ২৩ জানুয়ারি যাত্রাবাড়িতে বাসে পেট্রোলবোমা হামলায় নূরে আলমের দেহের ৪২% পুড়ে যায়। বোমায় দগ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন আরো ২ জন। সেখানে চিকিসাধীন ৫২ জনের মধ্যে গুরুতর দগ্ধদের ৭ জন এইচডিইউতে ও ৭ জন আইসিইউতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এদিকে, বোমায় দগ্ধদের দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিতে ঢাকাসহ সারাদেশের জেলা হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে জানান বিএমএ মহাসচিব।
চলমান রাজনৈতিক সহিংসতায় বোমায় দগ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি হয়েছিলেন ১০২ জন। চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৩ জন। আর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে ৭ জনের।
এদিকে, লক্ষ্মীপুরে অবরোধকারীদের পেট্রোলবোমায় রোববার রাতে সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালকসহ ৪ যাত্রী অগ্নিদগ্ধ হন। আশঙ্কজনক অবস্থায় তাদেরকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে অটোরিকশা চালক লিটন হোসেন ওরফে নয়নকে ঢাকা আনা হয়। পথিমধ্যে নয়ন মারা যান।
অগ্নিদগ্ধরা হলেন: মো. আশিক (২৮), আব্দুল করিম (২৭) ও সুমন
আমাদের সংবাদদাতা জানিয়েছেন, সদর উপজেলার মজু চৌধুরীর হাট থেকে লক্ষ্মীপুরগামী এ সিএনজি অটো রিকশাটিতে পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করে অবরোধকারীরা।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন জানান, পেট্রোল বোমা হামলায় দগ্ধ নয়ন মারা গেছেন। ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। দোষীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এদিকে, এর প্রতিবাদে লক্ষ্মীপুর শহরে জেলা বিক্ষোভ মিছিল বের করেছে যুবলীগ।