অনেক আশা ছিল বিদেশ গিয়ে ছোট ছোট সন্তানের জন্য মুখের আহার জোগার করবে রাশেদুল। তাই সমস্ত কিছু বিক্রি করে বিদেশে পাড়ি জমানোর চেষ্টায় রাজধানীতে আসার পথে পেট্রোলবোমায় দগ্ধ হয়ে মারা গেলেন ২৫ বছর বয়সী রাশেদুল।
চাকরির সন্ধানে আর তার দুবাই যাওয়া হলো না। সকাল ১০টায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানটি ঠিকই দুবাইয়ের উদ্দেশে ছেড়ে গেলেও সে চলে গেলেন না ফেরার দেশে।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে যাত্রীবাহী বাসে পোট্রোলবোমা হামলায় দগ্ধ ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালের (ঢামেক) বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার রাশেদুল মারা যান। এ পর্যন্ত ৮ জন মারা গেলেন। মঙ্গলবার মধ্যরাতে বাসটিতে অবরোধকারীরা পেট্রোলবোমা ছুড়ে।
বিকেলে চিকিৎসক জানান, রাশেদুলের প্রায় ৮৫% শরীর আগুনে পুড়ে গিয়েছিল, তার বেঁচে থাকার কোনো সম্ভাবনাই ছিলো না।
এর আগে সকালে ঢামেকের অধ্যাপক মোহাম্মদ সাজ্জাদ খোন্দকার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, অবরোধ-হরতালে পেট্রোলবোমায় দগ্ধ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের রাশেদুলসহ ৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এ সময় তিনি বলেন, সহিংসতায় দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসায় গুরুত্ব দিতে অন্যরোগীদের চিকিৎসায় কোনো প্রভাব পড়ছে কি-না সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে।
যেসব দগ্ধ রোগী চিকিৎসা শেষে ফিরে যাচ্ছেন, তাদের পুনর্বাসনে কেন্দ্রীয়ভাবে একটি তহবিল গঠনের বিষয়টিও বিবেচনাধীন রয়েছে বলেও জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।
গত মঙ্গলবার ভোররাতে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে যাত্রীবাহী বাসে অবরোধকারীদের ছোড়া পেট্রোলবোমায় দগ্ধ হয়ে ৭ যাত্রী নিহত হয়েছেন। দগ্ধ হয়েছেন কমপক্ষে ১৬ যাত্রী। তাদেরকে চৌদ্দগ্রাম ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
কুমিল্লা ফায়ার সার্ভিসের সহকারি পরিচালক মনির হোসেন দেশটিভিকে জানিয়েছেন, কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আইকন পরিবহনের একটি বাস কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের জগমোহনপুর এলাকায় পৌঁছলে বাসটিকে লক্ষ্য করে পেট্রোলবোমা ছোড়ে অবরোধকারীরা। এতে ঘটনাস্থলেই অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান ৭ যাত্রী।
আহতদের উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার হলে ৬ জনকে ঢামেক ভর্তি করা হয়।